Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পাঁচ ভাই-বোনের চারজনই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী

সুস্থ ও  স্বাভাবিক রয়েছে তাদের একমাত্র বোন

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২১, ১২:১২ পিএম

জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের জানকিপুর দড়িপাড়া গ্রামের ফুল মামুদ (৪৫) ও নাছিমা বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে চারজনই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। শুধু সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে তাদের একমাত্র মেয়ে। জন্মের কয়েক মাসের পর থেকেই চার ছেলের কারও চোখে আলো নেই। অভাবের তাড়নায় অনাহারে-অর্ধাহারে থাকা পরিবারটি তাদের চিকিৎসাও করাতে পারেনি।

তাদের বাবা ফুল মামুদ বলেন, “আমার জমি আছে মাত্র ৩ বিঘা। ওই জমিতে আবাদ করি আর অটোরিকশা চালিয়ে এই ১০ জনের সংসারে খাবার যোগাচ্ছি। লকডাউনে অটো চালানো নিষেধ ছিল তখন কোনো বেলায় একবার খেয়ে, কোনো বেলায় না খেয়ে দিন কাটিয়েছি। অনেক কষ্টের মধ্যেও তিন ছেলেকে পড়িয়েছি। কিন্তু আমি মরে গেলে এই সন্তানদের কে দেখবে? সরকারের কাছে আমার অনুরোধ যদি কিছু একটা ব্যবস্থা করে দেয় তাইলে আমি মরেও শান্তিতে থাকব।”

মা নাছিমা বেগম (৩৬) বলেন, “আমার  চারটে ছেলেই জন্মের পর ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই অন্ধ হয়ে যায়। আমি কিছু কবিরাজ, ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি। চিকিৎসা ঠিকমতো করাতে পারি নাই টাকার অভাবে। সরকার তো কতভাবে কত টাকা খরচ করে, যদি আমার চারটে ছেলেকে একটু ভাল চিকিৎসা করাতো...”

তার বড় ছেলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নাজমুল হক (২২) বলেন, “চার ভাই এর মধ্যে আমিই বড় এবং বিবাহিত। আমি আমার ছেলে মেয়ের মুখটাই দেখতে পারছি না। আমরা চার ভাইয়ের মধ্যে যদি একটা ভাই দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেতাম। তাহলে আর তিনটা ভাই চলতে পারতাম। চোখের দৃষ্টি শক্তিটা ফিরে পেলে ছেলে মেয়ের মুখটা তো একটু দেখতে পারতাম। অনেকেই ঘৃণা করে আমাদেরকে। আমরা সমাজে অবহেলিত।”

তার ভাই নয়ন (২০) বলেন, “আমি বকশিগঞ্জে গাজী আমানুজ্জামান মর্ডান কলেজে মানবিক বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষে পড়ালেখা করি। এসএসসিতে আমি জিপিএ ৩.৯৪ পেয়েছিলাম। এখন এইচএসসি পরীক্ষার জন্যও শ্রুতিলেখক প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের পক্ষে এতো টাকা জোগাড় করা সম্ভব না। হয়তো অর্থের অভাবে আমরা এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারব না।”

এ বিষয়ে বকশিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রতাপ কুমার নন্দী  বলেন, “কিছু প্রয়োজনীয় খাবার আছে, যেগুলো না খেলে পুষ্টির অভাবে দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে যায়। এছাড়া কিছু জন্মগত রোগ আছে, সেগুলোর কারণেও মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। এসব নিয়ে অনেক প্রচারণা দরকার।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই চার ভাইকে একজন আই স্পেশালিস্টের কাছে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করব। জানার চেষ্টা করবো যে- কি কারণে তারা অন্ধ। পরবর্তী চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব।”

বকশিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুন মুন জাহান লিজা বলেন, “একই পরিবারের চারজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর মধ্যে নাজমুল ও মোফাজ্জল প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন এবং নয়ন ও আজিম উদ্দিন শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছেন। তবুও নয়ন ও আজিম উদ্দিনের প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য কার্ড দেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বকশিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সবসময় তাদের পাশে আছি। সরকারের সুযোগ-সুবিধা যেনো তারা পায় এবং সমাজে যেন তারা পিছিয়ে না থাকে সেজন্য উপজেলা প্রশাসন সদা তৎপর আছে।”

About

Popular Links