Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিষমুক্ত আনারসে স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা

উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার একর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৫০ একর বেশি

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২১, ০৩:৪৬ পিএম

আনারসের জন্য বিখ্যাত টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা। উপজেলার জলছত্র ও গারোবাজারের আনারসের চাহিদা দেশ জুড়ে। আর তাই প্রতিদিন ভোর রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্যস্ত থাকে এখানকার আনারস বিক্রেতারা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা আসে মধুপুরের সুমিষ্ট আনারস ক্রয় করতে। করোনাভাইরাসের কারণে আনারসের চাহিদাও বেড়েছে। সেই সাথে দামও বেড়েছে। ফলে লাভবান হচ্ছে আনারস চাষিরা।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপুরের বিষমুক্ত এসব আনারস আকারে ছোট। এ আনারস বাগান থেকে কেটে দুই-তিন দিনের বেশি রাখা যায় না, পচে য়ায়। কিন্তু ফরমালিনযুক্ত আনারস সাত থেকে আটদিন রাখা যায়। আর অন্যান্য রাসায়নিক দিলে আনারসের আকারও অনেক বড় হয়, আবার রং গাঢ় হলুদ হয়। ফলে সহজেই সাধারণ ক্রেতারা আকৃষ্ট হয়। তাই বাধ্য হয়েই অনেক কৃষকই আনারসে অতিরিক্ত বৃদ্ধির জন্য হরমন প্রয়োগ করে। তবে সহনীয় মাত্রায় হরমন প্রয়োগ করলে তেমন ক্ষতি নাই বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

প্রতিদিন দশ থেকে ১৫ লাখ টাকার আনারস এই বাজারে বিক্রি হয়। ঢাকাসহ সারাদেশে ট্রাক, পিকআপ কিংবা সিএনজিতে আনারসের চালান যায়। তবে আনারস চাষিরা সাইকেল, ঘোড়াবাড়ী, ইজিবাইক কিংবা ভ্যানে আনারস বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসে।

আনারস চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি দামে আনারস বিক্রি হচ্ছে। এ বছর মানভেদে প্রতিটি আনারস ২৫ থেকে ৬৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর মানভেদে আনারস বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ৪৫ টাকা দরে।”

মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার একর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৫০ একর বেশি। প্রতি একরে গড়ে ১৩ হাজার আনারস উৎপাদন হয়। মধুপুরের এবং পার্শ্ববর্তী এসব উপজেলায় উৎপাদিত আনারস মধুপুরের জলছত্র এবং গারো বাজারে পাইকারি বিক্রি হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলায় হানি কুইন্ট ও জায়ান্ট কিউ জাতের আনারস চাষ হয়। গত বছর ৭ হাজার ১৮৬ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছিলো। এ বছর ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ করা হয়েছে। 

গারোবাজারের কৃষক হিসাব আলী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আনারস চাষ করছি। তবে অন্যবারের তুলনায় এবারের লাভের পরিমাণ বেশি। করোনাভাইরাস কালে ঠাণ্ডা জ্বর,কাশি রোগ নিরাময়ে আনারস খুবই উপকারী। তাই কেমিক্যালমুক্ত আনারসের বিপুল চাহিদা। আমি দুইএকর জমিতে আনারস চাষ করেছি। এতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ। আর ১৮ মাস পরিশ্রম করে ৫ লাখ টাকা লাভবান হয়েছি। এছাড়া জমিতে এখনও ২৫ শতাংশ আনারস রয়েছে।”

গারো বাজার হাটের আনারসের পাইকারি ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, “গত জুন মাস থেকে আনারস উঠতে শুরু করেছে। চলবে আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষিরা গারো বাজার এবং জলছত্র হাটে এনে প্রতিদিন আনারস বিক্রি করছেন। পাইকাররা কৃষকের কাছ থেকে কিনে ট্রাক ভরে পাঠাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। ”

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আনারসের ফলন ভাল হয়েছে। আর বাজারে আনারসের চাহিদা রয়েছে প্রচুর। তাই চাষিরা ভাল দাম পাচ্ছে। এতে আনারস চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। 

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার বলেন, “বর্তমানে আনারসের চাহিদা প্রচুর রয়েছে। যার ফলে এবার আনাসের চাষ বেড়েছে। আনারস চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রশিক্ষণে নিরাপদ আনারস চাষের ব্যাপারে চাষিদের সুনিষ্টভাবে অবগত করা হয়েছে। যাতে করে তারা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারে দূরে থাকে। আনারস চাষে চাষিদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আনারস দ্রুত পাকানো এবং বড় করার জন্য অনেকেই হরমন প্রয়োগ করছে। হরমন প্রয়োগ অনুমোদিত নিদিষ্ট মাত্রা রয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত হরমন প্রয়োগ করলেই ক্ষতি হবে। কিছু কিছু চাষিরা মাত্রাতিরিক্ত আনারসে হরমোন প্রয়োগ করছে। এর ফলে আনারসে স্বাদ থাকে না। অনেক চাষিই পরিপক্ব হওয়ার আগেই বাগান থেকে আনারস তুলেন। পরে সেটিকে পরিপক্ব করার জন্য হরমোন ব্যবহার করা হয়। যে কোন রাসায়নিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।”

About

Popular Links