Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দুই বছর ধরে বন্ধ সেতুর নির্মাণ কাজ, ২০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি

এ নিয়ে কারও কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২১, ১২:১০ পিএম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী উপজেলার বারাশিয়া নদী ওপর একটি সেতুর নির্মাণ কাজ দুই বছরেও শেষ হয়নি।

এতে দুই উপজেলার ২০ টি গ্রামের জনসাধারণের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজ হিসেবে নদীর দুই পাড়ে শুধুমাত্র ৩০ ভাগ কাজ করার পর প্রায় দুই বছর ধরে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে কারও কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।

দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী দুটি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের বসবাসরত মানুষের বারাশিয়া নদী পাড় হতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এছাড়া এর পাশেই রয়েছে বারাংকুলা প্রাইমারী ও হাই স্কুল। 

শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো পার দিয়ে অথবা পায়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পারিবারিক ডিঙ্গি নৌকায় ভরসা হয়ে দাঁড়ায় এই জনপদের মানুষের। অথবা প্রায় দশ কিলোমিটার পথ ঘুরে চলতে হয়। 

এদিকে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ করে সেতুর কাজ করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা এলজিইডির কার্যালয় সূত্র জানায়, সেতুটির অভাবে দুইটি উপজেলাবাসীর যোগাযোগ ব্যাবস্থা জন্মলগ্ন থেকে বিছিন্ন। বাঁশের সাঁকো অথবা নৌকাই একমাত্র ভরসা। তাই দুইটি উপজেলার যোগাযোগ বন্ধন ঘটাতে, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী আলফাডাঙ্গা উপজেলার বারাংকুলা প্রাইমারী স্কুল ও বারাংকুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিকট ৬২৫০.০০ মিটার এ বারাশিয়া নদীর উপর ৪০ মিটার পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয় ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই। 

সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৩ কোটি ৯০ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। যার কাজের বাস্তবায়নের দ্বায়িত্বে রয়েছে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। 

জানাগেছে, এস বি সি ই এল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি মুল ঠিকাদার হলেও কামারগানি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেবি করে কাজটি শুরু করেন। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসের ২১ তারিখের মধ্যে এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা বিল তুলে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও সেতুটি নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। 

এ ব্যপারে আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাহাত ইসলাম বলেন, “এ কাজের ঠিকাদার জেলে থাকায় কাজটি শুরুর পরেও বন্ধ রয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে যে পর্যন্ত কাজ হয়েছে তার হিসাব করে নতুন করে টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করতে হবে। তারপর পুনরায় কাজ শুরু হবে “ 

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান জাহিদ বলেন, “যতদুর জানি এ কাজের ঠিকাদার বেশ কয়েকটি মামলার আসামী হয়ে জেলখানায় বন্দি। তাই কাজটি দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে।”

About

Popular Links