Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মানিকগঞ্জে পদ্মায় বিলীন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুরোপুরি পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছে স্থানীয়রা

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২১, ০৪:৫৬ পিএম

মানিকগঞ্জের হরিহামপুর উপজেলায় নদীভাঙনে পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়েছে গেছে আজিমনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র।

শনিবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে হাসপাতালটি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার এ ঘটনা ঘটে। হরিরামপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. কুতুব উদ্দিন চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

জানা গেছে, গত বুধবারও যে হাসপাতালটিতে অসুস্থ মানুষের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত ছিল সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুরোপুরি পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছে স্থানীয়রা। 

এ ভাঙনের হুমকির মুখে আজিম নগর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের একমাত্র এমপিওভুক্ত আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, ৫৭নং হারুকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাতিঘাটা আশ্রয়ণ প্রকল্প, ইব্রাহিমপুর জামে মসজিদ এবং মাদ্রাসাও রয়েছে। দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এসব স্থাপনা পদ্মায় বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি রক্ষায় দাবি জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর আগে কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ না নেওয়ায় পাশের সূতালড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।তারা নদী ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আজিমনগর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০১২-১৩ অর্থবছরে হাতিঘাটা গ্রামে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কাজ শেষ হয়। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়।

এনায়েতপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, “এই বিশাল চরাঞ্চলের একমাত্র এমপিওভূক্ত আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়টিও বিলীনের শঙ্কায় রয়েছে। ইতোমধ্যে সুতালড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া আজিমনগরের হাতিঘাটা আশ্রয় প্রকল্প, ইব্রাহিমপুর মসজিদ ও মাদ্রাসা এবং হারুকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও নদীতে বিলীনের আশঙ্কায় রয়েছে।”

স্থানীয় ভুক্তভোগী কয়েকজন ব্যক্তি জানান, স্বাস্থ্যসেবা বিশেষ করে প্রসূতিসেবায় চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নৌকায় ৮-১০ কিলোমিটার পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকার নবাবগঞ্জ এবং হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা কোনো ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে যেতে হতো রোগীদের। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাঝেমধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি হওয়ার পর দীর্ঘদিনের এই সমস্যা অনেকটাই সমাধান হয়। তবে পদ্মায় বিলীন হওয়ায় 

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা  কর্মকর্তা মো. কুতুব উদ্দিন চৌধুরী জানালেন, পদ্মায় বিলীন হওয়া পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে আপাতত চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। দ্রুত অন্যকোনো স্থানে অস্থায়ীভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল।”

তবে বিলীনের বিষয়টি জানেন না জেলা পরিবারকল্যাণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. গোলাম নবী। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে? এটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছিলাম।”

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, “বিস্তৃর্ণ চরাঞ্চলে নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে হলে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। এছাড়া তীব্র স্রোতের কারণে কাজও করা যায় না। এ ছাড়া ৬০ লাখ টাকা খরচ করেও ৫০ লাখ টাকা স্থাপনা রক্ষা করা যায়নি।” ভবিষ্যতে চরাঞ্চলে স্থানান্তরযোগ্য স্থাপনা নির্মাণে পরামর্শ দেন তিনি।

About

Popular Links