Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রাজবাড়ীতে আবারও বাড়ছে পদ্মার পানি, পানিবন্দি কয়েক হাজার মানুষ

একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে জলদস্যু ও ডাকাতের উপদ্রব

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২১, ০৫:৫৭ পিএম

রাজবাড়ীতে গত কয়েকদিনে পদ্মা নদীর পানি কিছুটা কমে গিয়েছিল। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় তা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া দু’টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে নতুন করে নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে পানিবন্দি মানুষও।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ তথ্য জানিয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজবাড়ীর তিনটি গেজ স্টেশন পয়েন্টের মধ্যে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পানি ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে পানি ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে সদরের মাহেন্দ্রপুর পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার বাড়লেও এখনও বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে পাংশার হাবাসপুর, সেনগ্রাম, কালুখালীর রতনদিয়া, হরিণাবাড়িয়ার চর, সদরের মিজানপুর ইউনিয়নের চর কাঠুরিয়া, চর মৌকুড়ি, চর আমবাড়িয়া, বরাট ও গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম, ছোট ভাকলা, কুশাহাটার চর এবং বেতকার চরে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।

পানিবন্দি এলাকার মানুষ বর্তমানে শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। বেড়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। এছাড়া প্লাবিত কিছু দুর্গম চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে জলদস্যু ও ডাকাতের উৎপাত। ফলে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা রাত জেগে লাঠি হাতে পাহারা দিচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার সকালে দৌলতদিয়ার ৪ নম্বর ফেরিঘাটের পাশে সিদ্দিক কাজীর পাড়ায় ভয়াবহ ভাঙনে নদীর তীরবর্তী প্রায় ১০০ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে নদীপাড়ের একমাত্র মসজিদসহ চারটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ভাঙনের মুখে রয়েছে চারটি ফেরিঘাট, ঘাটের সংযোগ সড়ক, দুই শতাধিক পরিবারসহ বহু স্থাপনা।

সদরের আমবাড়িয়া চরের পানিবন্দি সালমা খাতুন বলেন, আমরা গত কয়েকদিন ধরেই পানিবন্দি। বাড়ির চারপাশে পানি। চুলা জ্বালাতে পারি না। ছোট ছোট দুই সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। চারপাশে পানি থাকায় সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ও রয়েছে। নতুন করে আবার ডাকাতের ভয় যোগ হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি আমাদের সহযোগিতা করেনি।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল বলেন, পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছিল। হঠাৎ করেই তা আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে দৌলতদিয়ায় প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আহাদ বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের ফলে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। আরও কয়েকদিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। 

তিনি বলেন, পানি বাড়ায় গতকাল (৩০ আগস্ট) দৌলতদিয়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের স্থানে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ সমন্বয় করেই দৌলতদিয়ায় ভাঙন ঠেকাতে কাজ করবে।

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হক বলেন, জেলায় পানিবন্দি ৭ হাজার ৫১৫ পরিবারের তথ্য পেয়েছি। এদের মধ্যে ৫ হাজার ৭৮৭ পরিবারকে ইতোমধ্যে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। বাকিদের ত্রাণসামগ্রী দেওয়া অব্যাহত রয়েছে।

About

Popular Links