Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সোনামসজিদ বন্দর থেকে আয় হবে ৫৪৩ কোটি টাকা, আশা কর্তৃপক্ষের

এ বন্দরে ২০২০-২১ অর্থবছরে আয় হয় ৭০৭  কোটি টাকা

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৫৯ পিএম

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনামসজিদে আমদানি পণ্য থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫৪৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সোনামসজিদ কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে এ বন্দর থেকে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭৩ কোটি ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। অর্থবছর শেষে আয় হয়েছে ৭০৭  কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৩৩ কোটি ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বেশি আয় হয় গত অর্থবছরে। 

এ স্থলবন্দর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরে জুলাই মাসে ২৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ও আগস্টে ৪৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। চলতি বছরে রাজস্ব আয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে বাণিজ্য সম্প্রসারণে কাস্টমস ও বন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

তারা জানান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হওয়ায় এ পথে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যে আগ্রহ তুলনামূলক বেশি। সোনামসজিদ স্থলবন্দরে সরকার আরও নজদারি করলে পণ্য আমদানি বাড়বে। 

যদিও বন্দরে মাঝেমধ্যেই ট্রাকে অতিরিক্ত পণ্য আনার অভিযোগে ব্যবসায়ীদের অযাচিতভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে রাজস্ব কমে যেতে পারে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুনুর রশিদ বলেন, “সোনামসজিদ স্থলবন্দরে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা দূর হলে রাজস্ব আয় আরও বাড়বে। ব্যবসায়ীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। তাহলে সরকারের উদ্দেশ্য আরও সফল হবে। ব্যবসায়ীরা যেখানে সুবিধা পাবেন সে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আগ্রহী হবেন এটাই স্বাভাবিক। বেনাপোল বন্দরসহ অন্যান্য বন্দরে অনেক সুবিধা থাকায় ব্যবসায়ীরা সে পথে আমদানিতে ঝুঁকছেন। সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেসব বাধা রয়েছে তা দূর করতে পারলে বন্দরের গতি আরও বাড়বে।”

আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান রাজু জানান, “মহামারির মধ্যে ভারতের মোহদীপুর থেকে সোনামসজিদে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশে সম্পূর্ণ সড়ক ব্যবহার করতে না দেওয়ায় বর্তমানে দিনে মাত্র ২৫০-৩০০টি ট্রাক আসছে। ফলে প্রত্যাশিত রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। সেক্ষেত্রে দু’লাইন করে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে দিলে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬’শ পণ্যবাহী ট্রাক আসলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।”

সোনামসজিদ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মমিনুল ইসলাম বলেন, “কোভিড পরিস্থিতিতেও ব্যবসায়ীরা যাতে ঘরে বসে ট্যাক্স দিতে পারেন সেজন্য এনবিআর ই-পেমেন্টের ব্যবস্থা চালু করেছে। এছাড়া রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গত বছর এ বন্দর দিয়ে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ায় এবার পুরোদমে চাল এলে এ বন্দরের রাজস্ব আয় আরও বাড়বে। এছাড়া সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় বন্দরের গতিশীলতা ফিরে এসেছে। সেবার মান বৃদ্ধির জন্য নানান পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।”

 

About

Popular Links