Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সরকারি জায়গা দখল করে বাজারের মধ্যে গড়ে উঠেছে ১০তলা ভবন

স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী দিয়ে পাহারা দেওয়া হয় দখল করা জায়গাগুলো

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৫ পিএম

কুমিল্লার দাউদকান্দি, হোমনা, তিতাস, মেঘনা, মুরাদনগর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার লাখ লাখ মানুষ দেশের নানা প্রান্তে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করেন দাউদকান্দির গৌরিপুর বাজার সড়ক। কিন্তু সেখানে দিনের প্রায় সবসময়ই যানজট লেগে থাকে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় আটকা থেকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। 

এই যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা বহুতল ভবন। 

স্থানীয়রা জানান, বাজারের পাশের সড়কের অনেক জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। লিজকৃত জায়গাতে স্থায়ী বহুতল ভবন করার অনুমতি না থাকলেও ভবনটি ইতোমধ্যে ১০তলা পর্যন্ত তোলা হয়েছে। 

তারা আরও জানান, গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পাশে এবং বাজারের আশেপাশে এমন অনেক জায়গা দখল করেই ভবন গড়ে তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। আর তাদের গাড়িগুলো রাস্তায় পার্ক করায় সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। 

অভিযোগ রয়েছে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরিপুর স্টেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিনের যোগসাজশেই জায়গা দখল করে ভবন তুলছে প্রভাবশালীরা। 

ফলে ভবিষ্যতে সড়কটি সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলে তা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। 

ঢাকা ট্রিবিউনকে একটি সূত্র জানিয়েছে, এই সড়ক হয়ে চারটি উপজেলার মানুষকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যেতে হয়। কিন্তু দখলদারিত্বের কারণে প্রাণহানিসহ চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে তাদের। 

ঢাকা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, জায়গা দখল করেই ক্ষান্ত না দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পাহারাও দেওয়া হয় দখল করা জমি। এমনকি ওই জমির আশপাশ দিয়ে কেউ হেঁটে গেলেও আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স রাকিব উদ্দিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী  রাকিব উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গৌরীপুর মডেল তদন্ত কেন্দ্রের সামনে সরকারি লিজের জায়গায় ১০তলা ভবন তুলেছেন এবং সেখানে একদল সন্ত্রাসী বাহিনী রেখেছেন, যাদের ভয়ে স্থানীয়রা কেউ মুখ খোলার সাহস পান না।

এদিকে, গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ও দাউদকান্দির প্রশাসন দুর্বৃত্তদের প্রতি ক্ষুব্ধ হলেও তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাকিব উদ্দিন বলেন, আমি পারিবারিক জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করেছি। যারা দখলদার, তারা আমাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করছে। 

অভিযুক্ত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর গৌরিপুরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিন বলেন, আমি সম্প্রতি কক্সবাজার বদলি হয়ে এসেছি। আসার পর দখলদারেরা আমার নামে নানা ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। আমি জায়গা উচ্ছেদের কাজ করি, দখলের নয়। জাল জমির কোনো কিছু আমি বুঝিও না। 

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল ইসলাম খান বলেন, দখলদারিত্বের বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের যদি আমাদের সহায়তার প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে আমরা উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা করব। 

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা-ই-রাব্বি বলেন, ২০১৫ সালের ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর চাইলে যেকোনো অবৈধ স্থাপনা যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে দিতে পারে। তাই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সমন্বয়ে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। 

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও যানজট নিরসণে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

About

Popular Links