Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কক্সবাজার সৈকতে নেই আশানুরূপ পর্যটক, তবুও উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

এ প্রসঙ্গে এক পর্যটক বলেন. ‘মাস্ক নিয়ে আসছিলাম। এখন পানিতে নামব তাই ফেলে দিয়েছি’

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৫৩ এএম

পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার পর প্রথমদিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সরগরম থাকলেও বর্তমানে কমে গেছে পর্যটকসংখ্যা। তবে যেসব পর্যটক সৈকতে ভ্রমণে এসেছে তাদের অধিকাংশই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট মালিকরাও সরকারের বেধে দেওয়া বিধিনিষেধ মানছে না। এ কারণে কক্সবাজারে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পুনরায় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। দীর্ঘদিন করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকার পর সকল পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানতে নানা শর্ত আরোপ করেছে সরকার। কিন্তু জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের মাইকিং সত্ত্বেও মাস্ক পরা বা স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে উদাসীন পর্যটকরা। 

রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা পর্যটক সৌরভ দেব বলেন, “মাস্ক নিয়ে আসছিলাম। এখন পানিতে নামব তাই ফেলে দিয়েছি। পানিতে নামলে তো মাস্কটা ভিজে যাবে। পরে মাস্ক কিনে পরব।”

ঢাকার মিরপুর থেকে আসা পর্যটক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, “বাসায় থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছি। এর জন্য কক্সবাজার ছুটে আসা। তাই এখন স্বাস্থ্যবিধি বা মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি কেউ মানছে না।”

শুক্রবার ছুটির দিনে সৈকতের বালিয়াড়ি পয়েন্টে শয়ে শয়ে ব্যবহৃত মাস্ক পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে সি-সেইভ লাইফ গার্ডের ইনচার্জ সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, “কোভিড সংক্রমণ থেকে বাঁচতে লাইফগার্ডের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পর্যটকদের মাস্ক ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করি। কিন্তু যেসব পর্যটক সৈকতে মাস্ক পরে আসেন তারা ওই মাস্ক ব্যবহার করে সৈকতেই ফেলে যান। যে কারণে সৈকতের বালিয়াড়ি নোংরা হচ্ছে। তারপরও চেষ্টা করি, বালিয়াড়ি থেকে ব্যবহৃত মাস্কটি তুলে ডাস্টবিনে ফেলার। এক্ষেত্রে পর্যটকদের সচেতন হওয়া একান্ত প্রয়োজন।”

কক্সবাজার হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাসেম জানান, “সরকারের দেওয়া সব শর্ত মানা হচ্ছে। সৈকতে পর্যটকরা স্বাস্থ্যবিধি মানছে কিনা সেই দায়িত্ব আমাদের নয়। কক্সবাজারে পর্যটনজোনে যেসমস্ত হোটেল-মোটেল রয়েছে সবকটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকদের রুম বুকিং দিচ্ছে। তবে আগের মত পর্যটকদের আগমন নেই’।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন আহমদ জানান, “প্রতিদিনই সৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা দায়িত্বপালন করে যাচ্ছে। আগে পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করলেও এখন পর্যটকদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে পর্যটকদের সচেতন করতে মাইকিং, টহলরত মাইকিং, বিচ বাইকযোগে মাইকিং ও পর্যটকদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অনেক পর্যটক সৈকতে আসেন। সবাইকেস্বাস্থ্যবিধি মানতে সচেতন করা সকলের দায়িত্ব। 

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটোকল শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, “সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সৈকতে পর্যটকের ঢল নামে। তবে এই সপ্তাহে আশানুরূপ পর্যটক ভ্রমনে আসেনি। এরপরও করোনাবাইরাসে সংক্রমণ রোধে পর্যটকদের সচেতন করতেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এটি ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।” 


About

Popular Links