Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শেষ বয়সে অবহেলায় থাকা মানুষদের জন্য বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তুলছেন তারা

তারা একত্রিত হয়েছেন; শেষ বয়সে অবহেলায় থাকা মানুষদের খুঁজে বের করে তাদের গড়া ছাতার নীচে আশ্রয় দেবেন বলে

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০৬ পিএম

তাদের কেউ প্রকৌশলী, কেউ ব্যাংকার, কেউ শিক্ষক, মোবাইল ফোন কোম্পানির কর্মকর্তা কিংবা ওষুধ কোম্পানিতে চাকুরি করছেন। পেশা বা কর্মক্ষেত্র এক হলেও তাদের সবার লক্ষ্য একই, আর তা হল- মানব সেবা। 

তারা একত্রিত হয়েছেন; শেষ বয়সে অবহেলায় থাকা মানুষদের খুঁজে বের করে তাদের গড়া ছাতার নীচে আশ্রয় দেবেন বলে। এ জন্য তারা জমিও কিনেছেন।

পিরোজপুর সদর উপজেলার সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামে তারা তৈরি করছেন একটি  বৃদ্ধাশ্রম। নাম দিয়েছেন “রিটায়ারমেন্ট হোম”।

বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণে জড়িত সকলের বাড়ি সিকদার মল্লিক ইউনিয়ন ও কদমতলা ইউনিয়নে। মানবসেবার ব্রত নিয়ে এক হওয়া এসব ব্যক্তিরা হলেন- মানস কান্তি সমাদ্দার, নরোত্তম সাহা, জ্ঞানময় মজুমদার, রাহুল দেব মজুমদার এবং মিথুন কুমার মজুমদার।

জুজখোলা গ্রামের রত্নগর্ভা কুসুম কুমারী মজুমদারের নাতি রাহুল দেব মজুমদার ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকুরি করছেন। আলাপকালে তিনি বলেন, “আমরা ষাটোর্ধ্বদের নিয়ে কাজ করবো। ইচ্ছে আছে পড়ন্ত জীবনে আমরাও এখানে থাকবো। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান।”

মানস কান্তি সমাদ্দার বলেন, “যারা আমরা একসাথে যুক্ত আছি সবাই আর্থিকভাবে অতটা সচ্ছল নয়। তারপরও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বৃদ্ধদের নিয়ে কাজ করব। বর্তমানে আমরা তিন কাঠা জায়গা কিনেছি। সেখানে আমরা বৃদ্ধাশ্রমটি তৈরি করবো। ভবিষ্যতে আমরা আরও জায়গা কিনবো।”

নরোত্তম সাহা বলেণ, “করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ঘরে বসে আমাদের মাথায় এসব কাজের চিন্তা  মাথায় ঢুকেছে।  আমরা সবার দোয়া চাই।”

জ্ঞানময় মজুমদার জানান, শিক্ষাজীবন শেষ করে চাকুরি জীবনে প্রবেশ করে বেশিরভাগ সন্তান তার বাবা মাকে বাড়িতে রেখে কর্মস্থলে চলে যায়। এক সময় অনেক বাবা মা হয়ে পড়ে অসহায়ের মতো। তাদের সেবা যত্ন করার মতো কেউ থাকেনা। এসব অভিবাবক ও বিভিন্ন অসহায় মানুষদের তারা নিজেদের গড়া বৃদ্ধাশ্রমে এনে রাখবেন।

শিক্ষক মিথুন কুমার মজুমদার বলেন, “আমাদের কারও জীবন চিরস্থায়ী নয়। ভালো কিছু করতে পারলে মানুষ সেটাকে মনে রাখে। বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ কাজে নিজেকে জড়াতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”

কেনা জমিতে পানি কমে গেলে স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানান তারা। আগামী ৬ মাসের মধ্যে সে কাজ শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

About

Popular Links