Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৮ বছরেও ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছায়নি ১০০০ কোটি টাকার ট্রেন

লোকবলের অভাবে ৭টি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ, নেই পরিচ্ছন্নতা কর্মী , প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল টিকিট, কালোবাজারে টিকিট বিক্রির অভিযোগ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ০২:১০ পিএম
 প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা, বারবার প্রতিশ্রুতি ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণে ৯ শ ৮২ কোটি টাকা ব্যয় করার পরও চালু হয়নি পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও-ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেন। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ, রেললাইন প্লাটফর্ম আধুনিকায়ন, মিটারগেজ থেকে ব্রডগেইজ রেল লাইন নির্মাণ সবই হলো শুধু আন্তঃনগর ট্রেনের হুইসেলটা আজো শুনতে পেলো না  অবহেলিত জনপদ বলে কথিত ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়ের মানুষ। 

গত চারটি ঈদ থেকে আন্ত:নগর ট্রেন চালু হওয়ার কথা ছিল। প্রাক্তন মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন এমপি বারংবার আশ্বাস দিলেও ট্রেন চালু হয়নি। ঈদে এ জেলার ঘরে ফেরা মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবার আশা করেও মানুষ বঞ্চিত হয়। বরং তার পরিবর্তে ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড়ের সাধারণ মানুষকে হতাশ করে ২০১৭ সালের জুলাই মাসের ১৭ তারিখে পঞ্চগড় রেলস্টেশন চত্বরে এক অনুষ্ঠানে শাটল ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। এ সময় পঞ্চগড় থেকে ঢাকা সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালুরও ঘোষণা দেন তিনি। এরপরে একাধিক সাংসদ উক্ত লাইনে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচলের আশ্বাস দিলেও কার্যত এর কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা। উপরন্তু দিনাজপুর-পঞ্চগড় রেলপথ ও ঠাকুরগাঁও রেল স্টেশনটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ে।

৯শ’ ৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০১০ সালের অক্টোবরে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থেকে ঠাকুরগাঁও হয়ে পঞ্চগড় পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটারের মিটার গেজ রেলপথকে আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও ডুয়েল গেজে রূপান্তর করার কাজ শুরু হয়। ২০১৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তারা দুই বার নির্মাণ কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ করার অঙ্গিকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা ও ম্যাক্রো কনস্ট্রাকশন। সর্বশেষ মেয়াদ ছিল ২০১৬ সালের জুলাই পর্যন্ত। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠান দুটি প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ করতে পারে। এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৯০ কিঃ মিঃ রেলপথের মধ্যে ১৩১টি ছোট ব্রিজ ও ৩টি বড় ব্রিজ পুণঃনির্মাণ ও রেলস্টেশন পুণঃনির্মাণ কাজ। পরবর্তীতে শতভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর রেলমন্ত্রী পঞ্চগড়ে এসে প্রত্যাশার আন্তঃনগর ট্রেনের পরিবর্তে শাটল ট্রেন উদ্বোধন করেন। 

এদিকে রেলপথ আর রেল স্টেশন আধুনিকায়ন হলেও লোকবলের অভাবে আখানগর, রুহিয়া, কিসমত, নয়নবুরুজ, শীবগঞ্জ, ভোমরাদহ ও বাজনাহার স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শাটল ট্রেন উদ্বোধনের পর ঠাকুরগাঁও রেল স্টেশনে প্রতিদিন ২০টি শোভন চেয়ার টিকিট বিক্রি করা হলেও এখন এ সংখ্যা বাড়িয়ে ৩২টি করা হয়েছে। এর মধ্যে শোভন চেয়ার ৩০টি ও প্রথম শ্রেণী এসি দুটি। এছাড়াও পঞ্চগড়ে ৩৫টি, রুহিয়ায় ১০টি ও পীরগঞ্জে ২৬টি শোভন শ্রেণির টিকিট বিক্রি করা হয়। রুহিয়া রেল স্টেশনের জন্য ১০টি টিকিট বরাদ্ধ থাকলেও রুহিয়া ও পঞ্চগড়ের স্টেশন মাস্টার হিসেবে একই ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত স্টেশন মাস্টার পঞ্চগড়ে দায়িত্ব পালন করায় রুহিয়ার টিকিটগুলো যাত্রীরা যথাসময়ে পান না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, রাতে স্টেশন মাস্টার রুহিয়ার বাসায় এলে সেখান থেকে উক্ত টিকিট কেনেন যাত্রীরা।

উল্লেখ্য ঠাকুরগাঁও রেল স্টেশনে প্রতিদিন গড়ে একশ টিকিট প্রয়োজন হয়। চাহিদার তুলনায় টিকিটের জোগান কম থাকায় প্রায়ই যাত্রীদের সাথে বচসা হয় বলে জানালেন স্টেশন মাস্টার। ঈদের সময় রীতিমতো পালিয়ে বেড়াতে হয় তাঁকে।

এদিকে ঠাকুরগাঁও রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আখতারুল ইসলাম জানান, নয়দিন আগেই আগাম টিকিট ছাড়া হয়। নির্দিষ্ট তারিখের তিন/চারদিন আগেই সকল টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।

About

Popular Links