Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এহসানের ভুক্তভোগী: জমি বিক্রির ২৫ লাখ টাকা এক ঘণ্টাও হাতে রাখিনি

পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৬ শতক জমি ২০১৮ সালের দিকে ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করে ২৫ লাখ টাকা জমা রাখেন এহসান মাল্টিপারপাসে

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০২ পিএম

সাদেক আহমেদ শাহাদাতের বাসা পিরোজপুর শহরের কেন্দ্রস্থল পুরাতন পৌরসভা সড়কে। পারিবারিক ঐতিহ্য আছে তাদের। তার বাবা আজাহার মিয়া ছিলেন একজন সফল আইনজীবী (তৎকালীন সময়ে মোক্তার)। শাহাদাত নিজে একজন ক্রীড়াবিদ, ফুটবল, ভলিবল ও লন টেসিন খেলায় পারদর্শী তিনি। পিরোজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক, শেরেবাংলা পাবলিক লাইব্রেরীর যুগ্ম সম্পাদক সহ পিরোজপুর টাউন ক্লাবের সদস্য তিনি।


আরও পড়ুন- সাত দিনের রিমান্ড শেষে জেল হাজতে রাগীব ও সহোদররা


সাদেক আহমেদ শাহাদাৎ জানান, তার সংসার চলতো ঠিকাদারির আয়ের টাকায়। গত কয়েক বছর তার ঠিকাদারি কাজ না থাকায় চালানপাতি ভেঙে খাচ্ছিলেন তিনি। এটা শেষ হওয়ার পর পিরোজপুর শহরের মুসলিম পাড়া (ম্যালেরিয়া পুলের কাছে) এলাকায় থাকা পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৬ শতক জমি ১৮ সালের দিকে ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করে ২৫ লাখ টাকা জমা রাখেন এহসান মাল্টিপারপাসে।

তিনি বলেন, “আমি জমি বিক্রি করে ১ ঘণ্টাও টাকাটা হাতে রাখিনি। যেদিন জমিটা বিক্রি করেছি সেদিনই আমি এহসানে ২৫ লাখ টাকা রেখেছি। এ থেকে আমি প্রতি মাসে ৪৭ হাজার টাকার কিছু বেশী পেতাম। ৮ থেকে ৯ মাস ধরে আমি এ লাভ পাচ্ছিলাম। মুনাফা পাওয়া বন্ধ হবার পর চালান হারানোর দুশ্চিন্তায় আছি।”

সাদেক আহমেদ শাহাদাত বলেন, “এহসানের এমডি রাগীব আহসানের শ্বশুর মাওলানা শাহ আলম পিরোজপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম (বর্তমানে মসজিদ থেকে চাকরীচ্যুত)। তার পেছনে আমি নামাজ পড়েছি। মাওলানা শাহ আলমের কথা বিশ্বাস করে আমি এহসানে টাকা রেখেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যার পেছনে নামাজ পড়ি তার কথা বিশ্বাস না করলে আমার কি নামাজ হবে? তিনি আমাকে বলেছেন, আমি এহসানের সাথে আছি। এইখানে টাকা রাখেন, এহসানের কার্যক্রম সুদমুক্ত। আমি মনে করেছি যদি আমি ২৫ লাখ টাকায় প্রতিমাসে ৪৭ হাজার টাকা পাই তাহলে সংসারটা আনন্দের সাথে কেটে যাবে। আমি লোভে পড়ে এহসানে টাকা রেখেছি।”

সাদেক আহমেদ শাহাদাত আরও বলেন, “আমি টাকা রাখার সময় এহসানের এমডি রাগীব আহসানকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আমি যে লাভ পাবো তার গ্যারান্টি কি? তখন তিনি আমাকে বলেন, আমি আপনাদের এখানে (শেরেবাংলা পাবলিক লাইব্রেরী মার্কেটে) ব্যবসা করি। আমাদের বিভিন্ন ব্যবসা আছে। জমি কেনা বেচার ব্যবসা আছে আমাদের। আমি পালিয়ে যাবো কোথায়?”


আরও পড়ুন- ইমামতি ছেড়ে এমএলএম ব্যবসা করে কোটি টাকা আত্মসাৎ!


শাহাদাত বলেন, “যখন আমি এহসানে টাকা রেখেছি তখন মনে হয় আমার সেন্সও কাজ করেনাই। যাচাই বাছাইও করিনাই। রাগীর যখন মুনাফা দেয়া বন্ধ করে দেয়। তখন আমরা চাপ প্রয়োগ করতে থাকি। গেল তিন চার মাস আগে পিরোজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও পিরোজপুর শেরেবাংলা পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা নকীবের বাসায় বৈঠক বসে এ বিষয়ে। এ সময় রাগীব আহসান শেরেবাংলা পাবলিক লাইব্রেরী মার্কেটে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকা এহসান গ্রুপের আল্লাহর দান বস্ত্রালয়টি আমাদেরকে (সাদেক আহমেদ শাহাদাত হোসেন, নজরুল ইসলাম নান্নার স্ত্রী হেনা পারভিন, পিরোজপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বড় ইমাম মোজাম্মেল হোসেন ও শাহিন আহমেদকে) লিখে দেয়। আমরা এই কয়জন মিলে রাগীব আহসানের কাছে আসল ৫৫ লক্ষ টাকা পাই।”

ব্যাংকের চাকুরী থেকে অবসরে গিয়ে ২০ লাখ টাকা রাখেন এহসানে

গোলাম আহাদের বাসা পিরোজপুর শহরের সিআই পাড়া এলাকায়। কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে চাকুরী থেকে অবসরে যান তিনি। এরপর ২০১৮ সালের দিকে তিনি ২০ লাখ টাকা রাখেন এহসানে। ১ লাখ টাকায় মাসিক ২ হাজার টাকা করে   মুনাফা পেতেন তিনি। সারাজীবন ব্যাংকে চাকুরী করলেন আর অবসরে গিয়ে টাকা রাখলেন এহসানে? অধিক মুনাফার জন্যই কি সেখানে টাকা রেখেছেন?

তিনি বলেন, “অবসর জীবনে আমাদের তো পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে হবে। এ জন্য আমি এখানে টাকা রাখি।”

মুনাফা পেয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কিছু পেয়েছিলাম। আমি শেরেবাংলা পাবলিক লাইব্রেরীর সাথে জড়িত। তাদের এহসানের কার্যক্রম লাইব্রেরীর মার্কেটে। এহসান গ্রুপের কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, অনেক হুজুরদের যাতায়াত এহসানে। শরীয়া মোতাবেক চলছে এহসানের কার্যক্রম এ কথা শুনে আমি এখানে টাকা রাখি।”


আরও পড়ুন- এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তার তিন ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে


তিনি বলেন, “এহসান গ্রুপ যখন আমাদের লাভ দিতে পারছিলনা তখন আমরা চাপ দিলে আমাকে, সাদেক আহমেদ শাহাদাত, নজরুল ইসলাম নান্নার স্ত্রী হেনা পারভিন, পিরোজপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বড় ইমাম মোজাম্মেল হোসেন ও শাহিন আহমেদকে শেরেবাংলা পাবলিক লাইব্রেরী মার্কেটে থাকা (মার্কেটের ভাড়াটিয়া) আল্লাহর দান বস্ত্রালয়টি লিখে দেয়। কিন্তু আমরা এর দখল বুঝে পাইনি।”

এহসানে টাকা রেখে দুশ্চিন্তায় মোরশেদ স্মৃতি শিশু নিকেতনের ভাইস প্রিন্সিপাল

নজরুল ইসলাম নান্না পিরোজপুরে এপেক্স ক্লাব পরিচালিত মোরশেদ স্মৃতি শিশু নিকেতনের ভাইস প্রিন্সিপাল। তিনি ৫ লাখ টাকা রেখেছিলেন এহসানে। সংসার বড় হয়েছে এ কারণে খরচ বেড়ে গেছে। এ জন্য তিনি তার স্ত্রী হেনা পারভীনের নামে এহসানে টাকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, “আমার ছোট ভাই ও অনেক পরিচিতজন এহসানে টাকা রেখেছে। এতেও আমার একটা বিশ্বাস জন্মেছে এহসানের প্রতি। আমি এহসানে ৪৫ মাস মেয়াদী হিসেবে ৫ লাখ টাকা রেখেছিলাম। আমাকে লাখ ২ হাজা টাকা দিত। যা দিয়ে মোটামুটি চলতো।”

নজরুল ইসলাম নান্না বলেন, “আমার তেমন কিছু নাই। এখন আসল টাকা বা মুনাফা ফেরত না পেয়ে আমি হতাশ। এই টাকা যদি ফেরত না পাই তাহলে আমার খুব কষ্ট হবে। আমি যাতে টাকা ফেরত পেতে পারি সে জন্য প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছি।”

About

Popular Links