Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চোখের সামনে মৃত্যুপথযাত্রী দেখেও এগিয়ে এলোনা র‍্যাব-সচিব-মিডিয়া!

একটা পুলিশের গাড়ি জটলা দেখে থামিয়ে জিজ্ঞেস করল যে কি সমস্যা। আমি তাদের দেখে আশ্বস্ত হয়ে বললাম যে তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে হবে। তারা বললেন যে, এটা (ঘটনাস্থল) নাকি তাদের এরিয়া (অঞ্চল) নয়!

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ০১:০৯ পিএম

রাজধানীর হাতিরঝিলে এক মোটরসাইকেল দূর্ঘটনার শিকার হোন দুই যুবক। ঘটনাস্থলে অনেকেই ভীড় করেছিলেন; কিন্তু আক্রান্ত ওই দুই ব্যক্তির সাহায্যে এগিয়ে আসলেন না কেউ! পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বাড়িয়ে দেননি কোনো সাহায্যের হাত। ঘটনা দেখেও নির্লিপ্তভাবে চলে গেছে গণমাধ্যম পরিবহন, এমনকি হাসপাতালের জরুরী অ্যাম্বুলেন্স! মানুষের এমন মানবতাহীনতাকে মানতে পারেননি একজন পথচারী। নিজের চোখে দূর্ঘটনায় আক্রান্ত দুই যুবকের প্রতি উপস্থিত জনগণ ও রাস্তায় গাড়িতে চলা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তা/কর্মচারীদের এমন শিথিলতা দেখে মর্মাহত হয়েছেন শরীফ উল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি। 

গতকাল মঙ্গলবার হাতিরঝিল পুলিশ প্লাজা সংলগ্ন একটি ব্রিজের ওপর ঘটা ওই দূর্ঘটনার তিক্ত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভও প্রকাশ করেন শরীফ।

সকালে সাইক্লিং অনুশীলনের সময় পথে দূর্ঘটনা কবলিত একটি মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখে সেখানে দাঁড়ান তিনি। তার সাথের আরও ৪/৫ জন সাইক্লিস্টও ঘটনাটি দেখেও সাহায্যের জন্য দাঁড়াননি। শরীফুল জানান, আক্রান্ত দুই যুবকের মধ্যে একজনের শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিল না। তবে গুরুতর আহত ব্যক্তিটির জ্ঞান ছিল। 

উপস্থিত সবার শিথিলতা দেখে শরীফ উল ইসলাম নিজেই পথে চলমান গাড়ি থামিয়ে তাদের হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বললেন, “রাস্তা দিয়ে অনেক প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস যাচ্ছিল, সেগুলো থামিয়ে সাহায্য চাইলাম। কিন্তু সবাই আমাকে নিরাশ করে চলে গেছে। চোখের সামনে দু’টো মানুষকে মরতে দেখেও কারও কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। ওখানে লোকজন দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিল। আমি অনেকবার অনুরোধ এমনকি গালাগাল করেও তাদের কারও সাহায্য পাইনি।”

যদিও দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সামনে ঘটা সড়ক দূর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে সহযোগিতার বিধান রয়েছে, তবুও সেখানে থাকা র‍্যাব ও পুলিশের আচরণে সে বিধানের প্রতিফলন ঘটেনি। আশ্চার্যান্বিত হয়ে তিনি বললেন, “পাশে র‍্যাবের ২/৩ জন ছিলেন, তাদের অনুরোধ করলাম। কেননা তারা হাত উঠালে রাস্তায় নিশ্চিতভাবেই গাড়ি থামবে। কিন্তু তাড়াও কথাটা গায়েই মাখলেন না। একটা পুলিশের গাড়ি জটলা দেখে থামিয়ে জিজ্ঞেস করল যে কি সমস্যা। আমি তাদের দেখে আশ্বস্ত হয়ে বললাম যে তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে হবে। তারা বললেন যে, এটা (ঘটনাস্থল) নাকি তাদের এরিয়া (অঞ্চল) নয়!” 

একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, একটি স্বনামধন্য হাসপাতাল ও একজন সচিবের গাড়ি থামিয়েও তাদের অনুরোধ করেন তিনি, কিন্তু কেউই কোনো না কোনো অজুহাত দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে গেছেন। তিনি বলেন, “শেষে একজন সিএনজি চালক তাদের সাহায্য করেন। আক্রান্ত দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক।” 

নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানতে তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। পরে জানা যায় নিহত রেদওয়ানুল কবির শুভ রাজধানীর আদাবরের বাসিন্দা। গুরুতর আহত অপরজনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।

দুঃখ-হতাশা-ক্ষোভ নিয়ে শরীফ উল হাসান বলেন, “কোথায় মানবতা? মানুষ মরে পড়ে থাকলে কেউ এগিয়ে আসে না। নিজেকে এতটা অসহায় কোনদিনও মনে হয় নাই। আজ যদি আপনার পরিবারের কারো সাথে এমন হয় পারবেন চুপ থাকতে? নানা অজুহাত দিয়ে পালাতে পারতেন? এমন স্বার্থপর জাতি আমি আজ প্রথম দেখলাম।”


About

Popular Links