Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘সুদমুক্ত’ সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি ছিল এহসানের প্রতারণার হাতিয়ার

এভাবেই সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করে আসছিল মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান ও তার তিন ভাই

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:০৭ পিএম

অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এহসান গ্রুপের হাতিয়ে নেওয়া ৫ কোটি ৯৩ লাখ ১৩ হাজার ৭৯৫ টাকা ফেরত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা সদর ও দেউলবাড়ী-দোবরা ইউনিয়নের প্রায় ১,৭০০ গ্রাহকের কাছ থেকে এ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য জানান মাওলানা মাসউদুর রহমান নামে এক ভুক্তভোগী। তার বাড়ী উপজেলার দেউলবাড়ী এলাকায়।


আরও পড়ুন- এহসানের ভুক্তভোগী: জমি বিক্রির ২৫ লাখ টাকা এক ঘণ্টাও হাতে রাখিনি


মাসুদুর রহমান জানান, এহসান গ্রুপ পিরোজপুরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাগীব আহসান বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে সুদমুক্ত সমাজ গড়ার কথা বলে দাওয়াত দিতেন। ধর্মভীরু লোকজন ওই দাওয়াতের ওপর ভিত্তি করে এহসানে সঞ্চয় করতে শুরু করেন। রাগীব আহসান তার এ কাজে মাঠকর্মী হিসেবে মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমামদেরকে নিয়োগ দেন। এ মাঠকর্মীদের মাধ্যমে নাজিরপুর সদর ও দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নের এক হাজার ৭০০ গ্রাহক থেকে ৫ কোটি ৯৩ লাখ ১৩ হাজার ৭৯৫ টাকা জমা নেন। ২০১৯ সাল থেকে এহসান গ্রুপ সদস্য ও গ্রাহকদের সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গসহ প্রতারণা শুরু করে।

মাওলানা মাসউদুর রহমান বলেন, “আমরা জমা টাকা ফেরত চাইলে আমাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে মাঠকর্মী কারী শামসুল হক বাদী হয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর এহসান গ্রুপের এমডি মুফতি রাগীব আহসানসহ ৭ জনকে আসামী করে পিরোজপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৭৭)। এহসান গ্রুপে রাখা আমরা আমাদের টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের সাহায্য কামনা করছি।”


আরও পড়ুন- ইমামতি ছেড়ে এমএলএম ব্যবসা করে কোটি টাকা আত্মসাৎ!


উল্লেখ্য, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎের অভিযোগে পিরোজপুর সদর থানায় এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান, তার অপর তিন ভাই সহকারী পরিচালক আবুল বাসার, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও তার অপর দুই ভাই মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও মো. খাইরুল ইসলামকে আসামী করা হয়।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বাসা থেকে এহসান গ্রুপের এমডি মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান ও তার ভাই আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। অপর দুই ভাই মুফতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও মো. খাইরুল ইসলামকে পিরোজপুরের খলিশাখালীর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পিরোজপুর পুলিশ।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদুজ্জামান মিলু জানান, পিরোজপুর সদর উপজেলার মূলগ্রাম রায়েরকাঠী এলাকার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান ও তার তিন ভাই মাওলানা আবুল বাশার, মো. খাইরুল ইসলাম ও মুফতি মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে ৯১ কোটি ১৫ লাখ ৯৩৩ টাকা আত্মসাৎের অভিযোগ এনে পিরোজপুর সদর থানায় প্রথম মামলা দায়ের করেন।


আরও পড়ুন- এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তার তিন ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে


পরে পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমারখালি এলাকার মো. হেমায়েত উদ্দিন বাদী হয়ে সদর থানায় ২ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। একই দিনে সদর উপজেলার শিকারপুর এলাকার মো. আব্দুল মালেক বাদী হয়ে ২ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী এলাকার মো. মনির বাদী হয়ে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। এছাড়া একই উপজেলার ছোটশৌলা গ্রামের আবুল হোসেন বাদী হয়ে ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎের মামলা দায়ের করেন।

পিরোজপুর সদর উপজেলার তেজদাসকাঠী এলাকার বাসিন্দা হারুনার রশিদের করা মামলায় গ্রেপ্তার রাগীব আহসান ও তার তিন ভাইকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২১ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদেরকে আবার কারাগারে পাঠান।

এদিকে, পিরোজপুর সদর থানায় এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫টি মামলা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সিআইডি ও পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি মামলা সিআইডিকে এবং একটি মামলা পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং অন্যটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টিগেশ (পিবিআই) এ মামলা তদন্ত করছে।

About

Popular Links