Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

`বঙ্গোপসাগরে ভারতের দাবি ভিত্তিহীন'

সমুদ্র বিশেষজ্ঞ মো. খুরশেদ আলম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আদালতের রায় ঘোষণার পর জাতিসংঘের মতো উচ্চপর্যায়ে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার পর্যালোচনার তদবির করতে পারে না

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৯ পিএম

সমুদ্র বিশেষজ্ঞ রিয়ার এডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রসীমায় ভারতের দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। একইসঙ্গে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুসারেও এই দাবি সমর্থনযোগ্য নয়। শনিবার (২ অক্টোবর) ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

আইওসি রিজিওনাল কমিটি ফর দ্য সেন্ট্রাল ইন্ডিয়ান ওশানের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়া মোহাম্মদ খুরশেদ আলম বলেন, “নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আপনি কোনো বিরোধ নিয়ে আপত্তি জানাতে পারেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক আদালতের রায় ঘোষণার পর আপনি জাতিসংঘের মতো উচ্চপর্যায়ে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার পর্যালোচনার তদবির করতে পারেন না।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্সের সচিব খুরশেদ আলম বলেন, “আমরা জাতিসংগকে জানিয়েছি যে, যেহেতু এই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, সুতরাং ভারতের আপত্তি তোলার কোনো সুযোগই নেই। ২০০৯ সালে ভারতের নির্ধারিত ভিত্তিরেখা আন্তর্জাতিক আইন সমর্থন করে না, কেননা শেষ তিন সমুদ্রমুখী বেস পয়েন্ট ভূখণ্ডে নয় বরং সমুদ্রে অবস্থিত। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের ৮৭ নাম্বার বেস পয়েন্ট সমুদ্রতীর থেকে প্রায় ১০ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে পুরোপুরি সমুদ্রের মাঝে অবস্থিত। একইসঙ্গে, দেশটির ৮৯ নাম্বার বেস পয়েন্টটি বাংলাদেশের জলসীমার ২ দশমিক ৩ মাইল ভেতরে অবস্থিত।”

এদিকে ভারতের মহীসোপানের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ একটি সিসেমিক জরিপের মাধ্যমে দেশের মহীসোপানের সীমা নির্ধারণ করা একটি প্রতিবেদন জাতিসংঘের কাছে জমা দেয় বলে জানান খুরশেদ আলম।

খুরশেদ আলম বলেন, “পরবর্তীতে, আন্তর্জাতিক একটি আদালত ভারত এবং বাংলাদেশের মহীসোপানের সীমা নির্ধারণ করে। রায় অনুসারে আমরা আমাদের সীমা ঠিক করে গতবছর জাতিসংঘের কাছে জমা দিই। কিন্তু, ভারত সেটিরও বিরোধিতা করে ভেটো প্রদান করে। তারা জাতিসংঘকে আমাদের প্রতিবেদন গ্রহণ না করার অনুরোধ করে।”

কন্টিনেন্টাল সেলফের বিষয়ে জাতিসংঘের একটি কমিটি আছে। কমিশন অন দ্য লিমিটস অব দ্য কন্টিনেন্টাল শেলফ (সিএলসিএস) কমিটিতে সমুদ্র বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা দাবি-দাওয়া যাচাই করে থাকেন।

পুরো বিষয়টি কমিটি যাচাই করার পরই ঢাকা সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে নিষ্পত্তি হওয়ার পরেও সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের অবসান না ঘটায় ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের দাবির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায় বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরে ভারতের ব্যবহার করে আসা বেসলাইন বা ভিত্তিরেখা এবং মহীসোপান বা কন্টিনেন্টাল শেলফ নিয়েই এই আপত্তি। ভারত নিজেদের সমুদ্রসীমা হিসেবে যে অংশ নির্ধারণ করেছে তা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘ সাত বছর দ্বিপাক্ষিয়ভাবে বিরোধ নিরসনে ব্যর্থ হয়ে ঢাকা ভারতের অবস্থান জানিয়ে বিষয়টি জাতিসংঘের কাছে উপস্থাপন করে। জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে পাঠানো পৃথক এক চিঠিতে ঢাকা ভারতের দাবি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে।

About

Popular Links