Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কারা যেন দেওয়ালে ঘিরে দিয়েছে সেই 'মৃত্যুকূপ'!

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ওই জায়গাতেই পড়ে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সেহরিন মাহবুব সাদিয়া, স্ল্যাব না বসিয়ে ফুটপাতের ওপর জায়গাটিকে ঘিরে দেওয়া হয়েছে দেওয়ালে

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩০ পিএম

চট্টগ্রাম শহরের বাসিন্দারা নগরীর খোলা নর্দমার নালার ওপর হঠাৎই একটি দেয়াল তৈরি হয়েছে। তবে এর পরই কারা কিংবা কীভাবে এই দেওয়ালটি নির্মাণ করেছে তা এখনও জানে না কেউই। ঠিক তিনদিন আগে ওইখানেই বিশ বছর বয়সী একটি মেয়ে পড়ে মারাও যান।  

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ফুটপাতকে সংকীর্ণ করে এই দেওয়াল তৈরি করেছে, যার ফলে পথচারীদের চলাচল করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে, এমনটিই দাবি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি)।

সিসিসির ডেপুটি চিফ ক্লিনিং অফিসার মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, “সিডিএ মধ্যরাতে দেয়াল তৈরি করেছে কিন্তু তা স্বীকার করছে না। ”

তিনি বলেন, “দুর্ঘটনাস্থলে দেয়াল তৈরি করার আগে স্ল্যাব লাগানো দরকার। এখন যেহেতু প্রাচীরটি ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে, পথচারীরা নতুন ঝুঁকিতে পড়বে কারণ তারা ফুটপাতের পরিবর্তে রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হবে।”

এদিকে, স্থানীয়রা নতুন প্রাচীরের সমালোচনা করে বলেছে, দেওয়ালটি অনেক দেরি করে নির্মাণ করা হলো। পথচারীদের নিরাপত্তায় আরও আগেই বেষ্টনী বা খোলা নর্দমার উপর স্ল্যাব নির্মাণ করা উচিত ছিল। 

গত সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের বাদামতলী এলাকার রাস্তার পাশে খোলা ড্রেনে পড়ে যান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সেহরিন মাহবুব সাদিয়া। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডাইভিং টিম সাড়ে চার ঘণ্টার চেষ্টার পর তার মরদেহ উদ্ধার করে। 

কিন্তু, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিসি বা সিডিএ কেউ এই “ব্যর্থতার” দায়িত্ব নেয়নি। 

মোরশেদুল আলম চৌধুরী আরও বলেন, “উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ শেখ মুজিব রোডে একটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে এবং এলাকার চারপাশের রক্ষণাবেক্ষণসহ সবকিছুর জন্য তারাই দায়ী।”

তার মতে, সিটি কর্পোরেশন সম্পর্কে মানুষের একটি ভুল ধারণা রয়েছে।

তবে ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটিই চট্টগ্রামে এ ধরনের প্রথম কোনো ঘটনা নয়। এর আগে মুরাদপুর এবং শহরের মেয়র লেনের খোলা নর্দমায় পড়ে তিনজন মারা গেছেন। কিন্তু, এই দুটি স্থানেও এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন করা হয়নি। 

এ বছরের ২৫ আগস্ট, ব্যবসায়ী সালেহ আহমেদ নামে একজন ব্যবসায়ী মুরাদপুর চশমা খালে পড়ে নিখোঁজ হন। তার লাশ এখনও উদ্ধার করা যায়নি। 

এর আগে গত ৩০ জুন, সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা মেয়র লেন এলাকায় একটি খালে পড়ে গেলে দুজন মারা যায়। সেখানেও কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়নি, উলটো স্থানীয়দের রাস্তায় খুঁটি বসিয়ে অটোরিকশাদের সতর্ক করতে বাধ্য হয়েছিল। 

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর, কর্তৃপক্ষ সিটিএ-কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, উন্নয়ন সংস্থা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় তারা জননিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করছে। 

তবে, বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। 

শুধুমাত্র এই বছরেই এমন তিনটি দুর্ঘটনা ছাড়াও বন্দর নগরীতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। 

২০১৭ সালের ২ জুলাই, শিলব্রত বড়ুয়া নামে সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তা শিল্পকলার সামনে একটি ড্রেনে পড়ে মারা যান। 

২০১৮ সালের ৯ জুন, আমিন জুট মিল এলাকার কাছে একই ধরনের দুর্ঘটনায় একটি শিশু মারা যায়। 

গত বছর, হালিশহরের ব্রিকফিল্ড এলাকার মহেশখালে পড়ে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছিল। 

খোলা নর্দমায় নিরাপত্তা বেড়া বা স্ল্যাবের জন্য নগরবাসীর হাজারও অনুরোধ সত্ত্বেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন করেনি।

About

Popular Links