Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

১২ বছরে হয়নি রাস্তার কাজ, সওজ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের পরামর্শ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেট বিমানবন্দর-বাদাঘাট বাইপাস সড়ক উন্নয়নের প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু ১২ বছরে ১২ কিলোমিটার রাস্তার কাজও হয়নি

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩৯ পিএম

সিলেট বিমানবন্দর-বাদাঘাট বাইপাস সড়কটির চার লেনের কাজ দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন সিলেট -১ আসনের সংসদ সদস্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। 

সওজ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা ১২ বছরে ১২ কিলোমিটার সড়কের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেননি।”

ক্ষুব্ধ মন্ত্রী সওজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করারও পরামর্শ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সাবেক  অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১০ সালে বিমানবন্দর-বাদাঘাট বাইপাস সড়ক উন্নয়নের প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। ১২ বছরে ১২ কিলোমিটার রাস্তার কাজও হয়নি। এই ব্যর্থতা আমাদের জন্য দুঃখের।  যারা এই রাস্তা ব্যবহার করছেন তাদের জন্যও দুঃখের। আর যারা এই কাজের দায়িত্বে (সওজ কর্মকর্তারা) ছিলেন তাদের জন্য লজ্জার। তাদের চাকুরি ছেড়ে দেয়া উচিত।”

ড. মোমেন আরও বলেন, “এখন সময় এসেছে আমাদেরও এ রকম চিন্ত-ভাবনা করার। প্রধানমন্ত্রীকেও এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে। কারণ জনগণের কাছে আমরা উন্নয়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উন্নয়নের ব্যাপারে কোনো গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়।”

সিলেট সওজ-কর্মকর্তাদের সম্পর্কে মন্ত্রী এমন সময় এমন মন্তব্য করলেন, যখন সওজ সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। 

এদিকে, সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিমানবন্দর-বাদাঘাট বাইপাস সড়কের বেশ কয়েকবার প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও নানা কারণে তা পূর্ণতা পায়নি। 

সূত্র জানিয়েছে, সিলেট বিমানবন্দর -বাদাঘাট বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য ১৯৯৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত প্রায় ৬ বার ডেভেলপম্যান্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) তৈরি করে সওজ। 

২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সিলেট-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিমানবন্দর -বাদাঘাট সড়কটি তার নিজের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা দেন। ২০১০ সালের ১০ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সড়কের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সে সময় সড়ক নির্মাণে ওই সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৫ কোটি ৪২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। 

সিলেটের বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে ৪ লেনের একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে সওজ। ২০১৭ সালে এ প্রস্তাব সংশোধন করে ৪ লেনের সঙ্গে দুটি সার্ভিস লেন যুক্ত করে সংশোধিত প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেই প্রস্তাবনা আরও একবার সংশোধন করা হয়। এরপর ৪ লেনের সড়ক প্রকল্পের প্রস্তাবনাই যায় মন্ত্রণালয়ে। সর্বশেষ গত বছরের শুরুতে মহাসড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে ৪ লেন করার প্রস্তাব নাকচ করা হয়। ফলে সিলেটবাসীর মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। 

এরপর সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে ড. এ কে আব্দুল মোমেন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। গত বছরের ৮ আগস্ট সওজ-এর একটি টিম সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে।

About

Popular Links