Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৬ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় সেই মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) রাতে ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা দায়ের করেন

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২১, ০১:১৬ পিএম

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ছয় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় মাদ্রাসাটির শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির মঞ্জুরের নামে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

শনিবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। শুক্রবার (৮ অক্টোবর) রাতে ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা দায়ের করেন।

আবদুল জলিল জানান, ওই শিক্ষককে মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। লক্ষ্মীপুর আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কাজিরদিঘিরপাড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, বুধবার (৬ অক্টোবর) ক্লাস চলাকালে উপজেলার একটি মাদ্রাসার ছয় শিক্ষার্থী চুল কেটে দেয় ওই শিক্ষক। এ ঘটনাটি পরে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। 

ভুক্তভোগী দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানান, গত বুধবার ইংরেজি ক্লাস চলাকালে মাদ্রাসার শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির ৬ শিক্ষার্থীকে ডেকে বারান্দায় নিয়ে যান। এরপর তিনি নিজেই ৬ জনের মাথার চুল এবড়ো-থেবড়োভাবে কেটে দেন। লজ্জায় তারা মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যান।


আরও পড়ুন - ৬ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় সেই মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা


পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, চুল বড় রাখায় কয়েক দিন আগে ক্লাস চলাকালে ছাত্রদের বকা দেয়। ওই ঘটনার পর তারা সবাই নিজ নিজ দায়িত্বে চুল ছেঁটে আসেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘মঞ্জুরুল স্যার আমাদের “ক” শাখার ছয় জনের চুল কেটে দিয়েছেন। কিন্তু “খ” শাখার কারো চুল কাটেননি। আমি মাথা ন্যাড়া করার কারণে চারদিন মাদ্রাসায় যাইনি। পরে স্যার দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়েছেন।’’

অভিযুক্ত শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির বলেন, ‘‘আমি দাখিল শ্রেণির সব ছাত্রকে পরীক্ষার আগের দিন চুল কেটে মাদ্রায় আসতে বলেছি। তারা আমার কথা না শোনায় কয়েকজনের চুল কেটে দিয়েছি। কোনো ছাত্রকে হুমকি দেওয়া হয়নি।’’

বামনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন মুন্সি বলেন, ‘‘মাদ্রাসার শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামের আমির। তিনি প্রায়ই ছাত্রদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তার ভয়ে ছাত্র তো দূরের কথা অন্য শিক্ষকরাও নিরুপায়।’’


About

Popular Links