Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হিন্দু ধর্মসভার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

হিন্দু ধর্মসভার জমিতে নির্মিত বহুতল ভবনের ২০টি দোকানের ১০ বছরে ভাড়া বাবদ ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য উন্নয়নের নামে জালিয়াতি করে এক কোটি ছয় লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন অভিযুক্তরা

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৩০ পিএম

বগুড়ায় উন্নয়নের নামে সরকারি বরাদ্দ এবং বিভিন্ন খাতের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শহরের জলেশ্বরীতলায় হিন্দু ধর্মসভা পরিচালনা কমিটির ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) কমিশনের বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নূর আলম এ মামলা করেন।

অভিযুক্ত পরিচালনা কমিটি সদস্যরা হলেন- বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলার হরিলাল বাহাদুর ছেত্রী (৫৮), একই এলাকার সৌমা লাহিড়ী (৪৯), অজয় কুমার দাস (৪৭), জয়পুরপাড়ার দেবাশীষ রায় (৫০), জলেশ্বরীতলার প্রদীপ কুমার সাহা (৪৮) ও অদিতী সিনহা ওরফে আগমনী (৪৬)।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলায় কালী মন্দির এলাকায় “হিন্দু ধর্মসভা” নামে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সাড়ে ২২ শতক জমিতে ২০টি দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হয়। ভাড়ার টাকা জমা হয় ধর্মসভার ফান্ডে। পুরোহিত থাকা সত্ত্বেও আগের কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও মামলার ২ নম্বর আসামি সৌমা লাহিড়ী নিজে পুরোহিত সেজে প্রতি সপ্তাহে শ্রী শ্রী শনি দেবীর পূজা পরিচালনা করেন। এভাবে তিনি মাসে ১৫ হাজার টাকা হিসেবে ১০ বছরে প্রায় ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়া, অন্য আসামিরা কৌশলে ও ইচ্ছামতো “হিন্দু ধর্মসভা” পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

জানা গেছে, কমিটির সদস্য নিখিল চন্দ্র কর্মকার ২০১১ সালের ৪ এপ্রিল জেলা পরিষদের সরকারি তহবিলের রাজস্ব খাত থেকে ৩০ হাজার ২৫০ টাকা, ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর ৬১ হাজার ৫০০ টাকাসহ মোট ৯১ হাজার ৭৫০ টাকা নেন।

একইভাবে, ১ নম্বর আসামি হরিলাল বাহাদুর ছেত্রী ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থ বছর পর্যন্ত মন্দির উন্নয়নের নামে জেলা পরিষদের এডিপি খাত থেকে ছয়টি বরাদ্দ তুল ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। 

অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মসভার জমিতে নির্মিত তিনতলা ভবনের ২০টি দোকানের ১০ বছরে ভাড়া বাবদ ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য উন্নয়নের নামে মোট এক কোটি ছয় লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে শহরের জলেশ্বরীতলার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাসুদেব চন্দ্র বর্মণ গত ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে একটি মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হলে কমিশন তদন্ত শুরু করে। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় মামলা রুজু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। 

এ বিষয়ে বাদী ও দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নূর আলম জানান, বুধবার এজাহারটি আদালতে পাঠানো হবে।

About

Popular Links