Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড

এখন পর্যন্ত এটাই দেশের রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৭:০৮ পিএম

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে তাপমাত্রাও। শুক্রবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এখন পর্যন্ত এটাই দেশে রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) তেঁতুলিয়ায়  ১১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।

হিমালয় থেকে ধেয়ে আসা হিমেল বাতাসে পঞ্চগড়ে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। দুপুর পর্যন্ত চারদিক ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে। রাত ও সকালের শীতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষ। পেটের দায়ে তীব্র শীত উপেক্ষা করে কাজে নামছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে অনলাইন পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন।

সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় এলাকার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “ভোর ৫টা থেকে নদীতে কাজ করছি। শীত হোক আর গরম হোক কাজ না করলে আমাদের একদিনও চলে না। কাজ করবো, টাকা নেবো, সংসারের বাজার সদাই করবো—এটা আমাদের নিত্যদিনের কাজ।”

রিকশাচালক দবিরুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন ধরে হিমালয়ের বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দিনের বেলাতেও কনকনে বাতাসে শরীর হিম হয়ে আসছে। গরম কাপড় পরেও রিকশা চালানো যায় না। রাস্তাঘাটে লোকজনও নেই। তাই রোজগারও কমে গেছে।

বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের গাইঘাটা এলাকার দিনমজুর সফিয়ার রহমান জানান, ঠাণ্ডার জন্য ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। কাজকর্মও পাওয়া যায় না। এ সময়টা তাদের খুব কষ্টে যায়।

জেলার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, পাথর ও চা শ্রমিক, দিনমজুর ও অসহায় ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা তিন লাখের বেশি। গত এক মাসে জেলায় সরকারিভাবে প্রায় ২৪ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে জেলায় আরও প্রায় পাঁচ হাজারের মতো শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এর বেশিরভাগই জেলা বা উপজেলা সদরে বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারিভাবে ২০০ থেকে ৩০০ বরাদ্দের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাঈয়েদ নুর ই আলম জানান, গোটা ইউনিয়নে শীতার্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। সেখানে এ পর্যন্ত বরাদ্দ পেয়েছি দুই শতাধিক।

জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মাসুম আলী জানান, জেলায় সরকারি বিভিন্ন ভাতাভোগী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। 

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ জানান, এ মাসে তাপমাত্রা আরও কমে যাবে। কুয়াশাও বাড়বে। সেই সঙ্গে বাড়বে শৈত্যপ্রবাহ।

জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, জেলায় প্রায় ২৪ হাজার কম্বল পাঁচ উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। আরও শীতবস্ত্র চেয়ে মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে।

About

Popular Links