Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘দূষণের ফলে ৫০ বছরের মধ্যে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে ওঠতে পারে বঙ্গোপসাগর’

সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পাঠ্যক্রমে সমুদ্র সংরক্ষণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:১১ পিএম

বাংলাদেশের স্থলভাগের চেয়েও বড় অংশ হলো বঙ্গোপসাগর। দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ এ সাগরের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্লাস্টিকসহ নানা দূষণের কারণে বঙ্গোপসাগর আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে ওঠতে পারে। তবে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করে সমুদ্রস্বাক্ষর জাতি গঠনের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরকে বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউট (বুরি) মিলনায়তনে সমুদ্র রক্ষা, পুনর্গঠন ও টেকসই ব্যবহারের জন্য সমুদ্রস্বাক্ষর জাতি গঠনের গুরুত্ব বিষয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, “বর্তমানে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পাঠ্যপুস্তকে সমুদ্র সংক্রান্ত কোনো বিষয় পড়ানো হয় না। অনেকে সাগর দূষণ কথাটাও মানতে নারাজ। অথচ আমাদের অজ্ঞতার কারণে সৃষ্টিকর্তার এমন অমূল্য দানের যথাযথ ব্যবহার আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না।”

সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্র দূষণের কারণে বঙ্গোপসাগরের পানিতে নানা ধরনের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিজ্ঞানীরা বলেন, “সমুদ্র রক্ষায় একটি সঠিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।” সমুদ্র দূষণ বন্ধে পর্যটন এলাকায় এককালীন প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধেরও পরামর্শ দেন বিজ্ঞানীরা।

পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে গত ২ বছর ধরে কক্সবাজার উপকূলে কচ্ছপ আসছে না বলে জানান সমুদ্র বিজ্ঞানী আবদুল কাইয়ুম। 

পানিতে মাইক্রোবায়াল পলিউশন বা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূষণ বেড়ে যাওয়ার কারণে পর্যটন শিল্পও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন ড. ওয়াহিদুল আলম সাগর।

প্রধান অতিথি হিসেবে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ও মৎস্য অনুষদের ডিন ড. বাশেদউন্নবী রাফি ও নৌ-বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত প্রধান হাইড্রোগ্রাফার শেখ মাহমুদুল হাসান।

বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউট ও সমুদ্র সংক্রান্ত জ্ঞান প্রচারকারী সংগঠন অক্টোফিনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুল আলম, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. সাইদুল ইসলাম সরকার ও ড. এনামুল হক। 

এছাড়া, বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের কেমিক্যাল ওশানোগ্রাফি বিভাগের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাইদ মোহাম্মদ শরিফ ও ভূ-তাত্ত্বিক ওশানোগ্রাফি বিভাগের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া, অক্টোফিনের মোসাম্মত ইসরাত জাহান, সানজিলা শারমীন, হৃষিকা বড়ুয়া, ইমরান ও জাহিন প্রমুখ সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।

দিনব্যাপী এ সেমিনারে অক্টোফিনের সদস্য এবং সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যম আর সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

About

Popular Links