Wednesday, June 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শাবিতে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ

অবরুদ্ধ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে মুক্ত করতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৪১ পিএম

প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে তালা ভেঙে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় বাধা দিলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনের তালা ভেঙে পুলিশি নিরাপত্তায় ভিসিকে বের করে আনা হয়।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, বিকেল ৪টার দিকে ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশের পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। এ অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। নিক্ষেপ করে সাউন্ড গ্রেনেডও। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। ইট-পাটকেল নিক্ষেপেরও ঘটনা ঘটে।

বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আন্দোলনকারী ছাত্রীরা হলে ফিরে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ বিষয়ে আজনতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জানান, এ বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছেন। 

শাবির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম রাত পৌনে ৮টায় জানান, তিনি জরুরী সিন্ডিকেট মিটিংয়ে আছেন। এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগের দাবিসহ তিন দফা দাবি আদায় এবং ছাত্রীদের চলমান আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগে রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর সংলগ্ন রাস্তা অবরোধ করেছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর তিনটার দিকে গোলচত্বরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস, প্রক্টর ড. আলমগীর কবির এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মহিবুল আলমসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক সমিতির সভাপতি শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়ে হলের গুণগত মান উন্নত এবং অব্যবস্থাপনার সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান। এজন্য তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে সাতদিনের সময় চান। কিন্তু শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি না মানার প্রেক্ষিতে তারা বর্ধিত সময় দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন এবং তখন শিক্ষার্থীরা তাদের সামনে “ধিক্কার ধিক্কার, প্রশাসন ধিক্কার” বলে স্লোগান দিতে থাকেন। 

এরপরে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের পিছু নেন এবং অর্জুনতলা থেকে ফিরে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে গেলে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সামনে পান। তখন শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পিছু নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় উপাচার্যকে নিয়ে উপস্থিত শিক্ষক ও কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে ঢুকলে শিক্ষার্থীরা সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করেন।

এদিকে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত করার জন্য সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতন্ডা হয়।

About

Popular Links