Friday, June 14, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আয়াকে ‘নার্স’ বানিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন!

অদক্ষ হাতে সিজারিয়ান অপারেশন করতে গিয়ে নবজাতকের কপাল কেটে যায়। এ ঘটনায় মামলা করে ভুক্তভোগী পরিবার

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:৪০ পিএম

ফরিদপুরে হাসপাতালের কর্মচারীকে দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় নবজাতকের কপাল কেটে ফেলার ঘটনায় ১৪ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার ঢাকা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলায় ফরিদপুরের “আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতাল” মালিক, দুই পরিচালকসহ চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, “মামলায় আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান রহিমা রহমান, তার দুই ছেলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকারিয়া ও মো. আল হেলাল মোল্লা এবং ওই হাসপাতালের নার্স হিসেবে পরিচয় দেওয়া আয়া চায়না বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত চায়না বেগমকে ওই হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ নার্স হিসেবে দাবি করা হয়। কিন্তু তিনি একজন আয়া।
পুলিশ জানিয়েছে, আসামি মো. জাকারিয়া, মো. আল হেলাল ও চায়না বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে জেলার মুখ্য বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।

এদিকে ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে এডিএম মো. লিটন আলীকে সভাপতি করা হয়েছে । অন্য তিন সদস্য হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) 

সুমন রঞ্জন সরকার, সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাসুদুল আলম, সদরের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাতেমা করিম।

ফরিদপুরের এডিএম মো. লিটন আলী বলেন, “ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।”

ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ হাসপাতালটি স্থাপিত হয় ২০০৭ সালে। ২০১৫ সাল থেকে এ হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দক্ষিণ ময়েজউদ্দিন মণ্ডল পাড়া গ্রামের শফিক খানের সন্তানসম্ভবা স্ত্রী রূপা বেগমকে (২০) ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের নার্স দাবি করা আয়া চায়না বেগম সিজারিয়ান অপারেশন করতে গেলে নবজাতকের কপালের বাম ভ্রুর ওপরে কিছু অংশ কেটে যায়। পরে ৯টি সেলাই দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিনই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয়।

About

Popular Links