Friday, June 14, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ধর্ষণ থেকে রক্ষা পেতে ‘বাঁচাও’ অ্যাপ

যদি কোনো নারী ধর্ষিত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েন তখন এই অ্যাপটির মাধ্যমে তিনি সহায়তা চাইতে পারবেন

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৪১ পিএম

বোন ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর ধর্ষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে নারীদের এ ধরনের ঘটনা থেকে রক্ষার জন্য “বাঁচাও” নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছেন জালাল আহমেদ। যদি কোনো নারী ধর্ষিত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েন তখন এই অ্যাপটির মাধ্যমে তিনি সহায়তা চাইতে পারবেন। গত অগাস্টে সীমিত আকারে অ্যাপটি চালু করা হয়েছে। অনলাইন পোর্টাল বিডিনিউজ ২৪ ডট কম এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

অ্যাপ নির্মাতা জালাল আহমেদ জানান, ২০০১ সালে প্রেম করে বিয়ের পর তার বোনকে “বিক্রি” করে দিয়েছিলেন তার স্বামী। এরপর তাকে গণধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণকারীরা তাকে হুমকি দিয়েছিল হত্যার পর মর্গে তার মৃতদেহকেও ধর্ষণ করা হবে।

জালাল আহমেদ বলেন, “ওই দিন থেকে আমার বোন আর কোনো কথা বলেনি। ২০১৮ সালে মৃত্যুর আগে আমার মা মেয়েদের রক্ষা করার জন্য কিছু একটা করার জন্য বলেন।”

মায়ের মৃত্যুর পর জালাল ধর্ষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। অবশেষে নারীরা যাতে প্রয়োজনের সময়, বিশেষ করে ধর্ষণ থেকে নিজেদের রক্ষায় সহায়তা চাইতে পারে, সেজন্য “বাঁচাও” নামে অ্যাপটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। গত ২ অক্টোবর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষ তা ডাউনলোড করেছেন। যার ৫৫% ঢাকার বাসিন্দা এবং এর পরেই রয়েছেন চট্টগ্রামের বাসিন্দারা।

জালাল আহমেদ বলেন, “৮০% ধর্ষণের ঘটনাই নারীটির আশপাশের কোনো স্থানে ঘটে এবং সেটা তার আবাসস্থল থেকে বেশি দূরে হয় না। আমরা দেখেছি, একমাত্র সমাজের সবাই এগিয়ে এলেই ধর্ষণ ঠেকানো সম্ভব, কারণ তারাই দ্রুত ঘটনাস্থলে যেতে পারে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে, কিন্তু কোনো নারীর যখন সহায়তা দরকার হয় তখন সবখানে তাদের পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশে ৮০০ জনের জন্য একজন পুলিশ সদস্য রয়েছে। কাউকে সহায়তা করার জন্য তাদের পক্ষে কী দূর থেকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব? একমাত্র সমাজের লোক কিংবা স্বেচ্ছাসেবকরাই দ্রুত সহায়তা করতে পারবেন।”

যেভাবে কাজ করে “বাঁচাও” অ্যাপ:

জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাঁচাও অ্যাপ। যেখানে একটি মাত্র ছোঁয়ায় সমস্যায় পড়া একজন নারী তার কাছাকাছি স্বেচ্ছাসেবক, পরিবার, বন্ধু অথবা পুলিশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। এই অ্যাপটি সহায়তা চাওয়া নারীর অবস্থান নির্দেশ করবে এবং এর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে টেক্সট কিংবা অডিওর মাধ্যমে তার যোগাযোগ স্থাপন করবে।     

গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ইনস্টল করার পর জরুরি যোগাযোগের জন্য পরিবার এবং বন্ধুদের ফোন নম্বর নির্বাচন করতে হয়। যদি কোনো নারী ধর্ষণের আশঙ্কা করেন তবে তিনি “রেপ অ্যালার্ট” লেখা লাল বোতাম চাপলেই হবে। কাছাকাছি থাকা স্বেচ্ছাসেবকরা ওই সতর্কবার্তা পেয়ে যাবেন এবং তারা “মেসেজ” দিয়ে যোগাযোগ করবেন কিংবা ওই নারীকে সহায়তার জন্য ফোন করবেন। ওই নারীও পাল্টা যোগাযোগ করতে পারবেন। 

নিজেকে নিরাপদ মনে করলে ওই নারীকে “সেইফ নাউ” লেখা সবুজ বোতামে একবার চাপ দিতে হবে। এছাড়া “বাঁচাও” হেল্পলাইনে যে কেউ ফোন করতে পারবেন।

এই কার্যক্রম চালাতে বাধার বিষয়ে জানতে চাইলে জালাল আহমেদ জানান, প্রথম বাধাটি ছিল গুগলের কাছ থেকে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং তথ্য সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কার কারণে সাতবার তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে গুগল। অ্যাপটিতে একটি কন্টাক্ট সেট করতে হয় যা স্বেচ্ছাসেবক এবং ঘটনার শিকার নারীর যোগাযোগের বার্তাগুলো রেকর্ড করবে। এতে অবশ্যই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে অনেকে আপত্তি তুলবেন। তবে সবশেষে আমরা অ্যাপটি ব্যবহারের উদ্দেশ্য বোঝাতে সক্ষম হয়েছি এবং গুগুল আমাদের অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া ব্যবহারকারী কোনো কলে যোগ দিতে চায় কি না কিংবা তা রেকর্ড করা হবে কি না তার অনুমোদন চাইবে এই অ্যাপ।”  

যেহেতু ব্যবহারকারীরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং কোনো স্থানে আছেন সেটা শেয়ার করবেন তাই অ্যাপ কিছু নীতিমালা মেনে চলবে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রধান।

তিনি বলেন, “নারীদের নিরাপত্তার জন্য কলগুলো “অ্যাপ থেকে অ্যাপ” এ যাবে তাই কোনো ফোন নম্বর দেখাবে না। “বাঁচাও” অ্যাপ কেবল অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই ব্যবহার করা যাবে।”

About

Popular Links