Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শাবির অনশনরত শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীরা জানান, যারা অনশনে রয়েছেন, তাদের কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি। বিভিন্ন হাসপাতালে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া মেলেনি

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২২, ০২:৫২ পিএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত চার শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বুধবার রাতে আন্দোলনরত অবস্থায় দুজন এবং বৃহস্পতিবার সকালে আমরণ অনশনরত অবস্থায় আরও দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বৃহস্পতিবার (২০জানুয়ারি) শাবি ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আগের মতোই অবস্থান করছেন আন্দোলনকারীরা। অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত রয়েছেন।

আন্দোলনরতরা জানান, যারা অনশনে রয়েছেন, তাদের কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ইতোমধ্যে অন্তত চারজন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি। বিভিন্ন হাসপাতালে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে বৃহস্পতিবার সকালে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসককে নিয়ে আসেন। মানবিক কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সাড়া দেন।

এ চিকিৎসককে অনশনরত অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে। জ্বরের কারণে এক ছাত্রীকে বমি করতেও দেখা গেছে।

এর আগে বুধবার রাতে বাংলা বিভাগের মোজাম্মেল হক ও সমাজকর্ম বিভাগের দীপান্বিতা বৃষ্টি নামের দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদেরকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অনশনরত শিক্ষার্থী জাহিদুল হাসান অপূর্ব বলেন, “দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাব। কোনো প্রতিবন্ধকতাই আমাদের টলাতে পারবে না। শুধু ওয়াশরুমের প্রয়োজন ছাড়া আমরা এই জায়গা থেকে উঠব না। কোনো ধরনের খাবারও গ্রহণ করব না।”

আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, “অনশনকারীরা ইতোমধ্যেই দুর্বল হতে শুরু করেছেন। চার থেকে পাঁচ জন ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমরা ভার্সিটির মেডিকেল সেন্টার থেকে কোনো সহায়তা পাইনি, অ্যাম্বুলেন্স পাইনি। আমরা রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগাযোগ করলে তারা সরাসরি মানা করে দেন যে, তারা এটার সঙ্গে যুক্ত হবেন না। আমরা মাউন্ট অ্যাডোরায়ও যোগাযোগ করি। কিন্তু তারা বলে তাদের নাকি রিসোর্স নাই। আমরা ওসমানী হাসপাতালেও ফোন করি, কিন্তু তারা ফোন রিসিভ করেননি।”

তিনি বলেন, “আমাদের একটাই দাবি, আমরা ভিসির পদত্যাগ চাই। আমরা এই আন্দোলন থামাবো না। যে ভিসির কিচ্ছু যায় আসে না যে, তার শিক্ষার্থীরা মারা গেল নাকি কি হলো। তার কাছে গদিটাই বড় বিষয়।”

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “অনশনকারীদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু তবুও উপাচার্য গদি ছাড়ছেন না। এই ২৪ জনের কিছু হলে আরও ২৪ জন আসবে। এরপর আরও ২৪ জন আসবে। দেখি তিনি পদত্যাগ না করে কিভাবে থাকেন।”

জানা গেছে, প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি থাকলেও আন্দোলনরতরা এখন উপাচার্যের পদত্যাগেই সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের জন্য বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। অন্যথায় আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন।

বুধবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে উপাচার্য পদত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে আমরণ অনশন শুরুর সিদ্ধান্ত নেন।

About

Popular Links