Wednesday, June 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শাবিতে এবার গণ-অনশনের ডাক

অনশনরত শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগের অবস্থাই শঙ্কটাপন্ন

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৩২ পিএম

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষার্থীরা কাফন মিছিলের পর এবার গণ-অনশনের ডাক দিয়েছেন।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্ত্বরে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনকারীদের পক্ষে শিক্ষার্থী ইয়াসির সরকার এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “২৩ শিক্ষার্থীর আমরণ অনশনের ৭৫ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও উপাচার্য পদত্যাগ না করায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের সহযোদ্ধাদের মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে দেখে গণ-অনশনে বসার সংকল্প নিয়েছেন। উপাচার্য পদত্যাগ না করা দেখা পর্যন্ত অনশন চলবে।”

শনিবার রাত রাত ৮টা থেকে গণ অনশন শুরু হওয়ার কথা জানান তিনি। অনশনরত কোনো শিক্ষার্থী মারা গেলে তার দায় উপাচার্যকে নিতে হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে, শনিবার দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্ত্বরে পরিধান করে মৌন মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রতীকী কফিন কাধে নিয়ে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।


আরও পড়ুন: শাবিতে এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিল


এদিকে, অনশনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থা ভালো নেই, বেশিরভাগের অবস্থাই শঙ্কটাপন্ন। স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটায় কিছু শিক্ষার্থীকে অনশন ভাঙ্গার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এখন পর্যন্ত সিলেটের তিনটি হাসপাতালে মোট ১৬ জন গুরুতর অসুস্থ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে । এছাড়া উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনরত সাতজনের অবস্থাও ভালো নেই বলে জানান আন্দোলনকারীরা।


আরও পড়ুন: অনশনরত ১৬ শাবি শিক্ষার্থী হাসপাতালে


বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসিক হলের সমস্যা নিরসনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনার পরদিন রবিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। তারা প্রভোস্ট বডির পদত্যাগ ও হামলার বিচার দাবি করেন। 


আরও পড়ুন: শাবি শিক্ষকদের একাংশ: ‘নোংরা’ স্লোগান দিচ্ছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা


পরে বিকাল ৪টায় আইআইসিটি ভবনের সামনে উপাচার্যকে মুক্ত করতে পুলিশ উপস্থিত হয়। এ সময় “ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন? প্রশাসন জবাব চাই” স্লোগানে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় লাঠিপেটার পাশাপাশি, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়ে পুলিশ ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করে ভিসিকে উদ্ধার করে বাংলোতে পৌঁছে দেন। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


আরও পড়ুন: শাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ


পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সোমবার (১৭ জানুয়ারি) ১২টার মধ্যে সব শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেন। তবে শিক্ষার্থীরা হল না ছেড়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

About

Popular Links