Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তথ্যমন্ত্রী: জেলখানার কয়েদিরাও পানি-খাবার পায়

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট আমরাও করেছি। কিন্তু আমরা কখনো বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি নাই’

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৪৪ এএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, “জেলখানার কয়েদিরাও খাবার পায়, পানি পায়। খাবার বন্ধ করে দেওয়া, ভিসির বাংলো কিংবা ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া বা কেটে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা, এগুলো আন্দোলনের অংশ হতে পারে না, এগুলো প্রতিহিংসামূলক।”

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, “ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট আমরাও করেছি। কিন্তু আমরা কখনো বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি নাই। আজকে শুনলাম, ভিসির বাংলোতে পানি প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ভিসির জন্য খাবার পাঠানো হয়েছিলো সে খাবারও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।”

তিনি বলেন, “আমি ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনুরোধ জানাবো, রাজনৈতিক ক্রীড়াঙ্গন হিসেবে তাদেরকে যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে। আমি আশা করবো, এর একটি যৌক্তিক সমাধান হবে।”

হাছান মাহমুদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তান এবং সন্তানের মতো। তাদের দাবিদাওয়ার প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন নানা দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করেছি।”


আরও পড়ুন- শাবি উপাচার্যকে খাবার দিতে গিয়ে ব্যর্থ প্রক্টোরিয়াল টিম


এর আগে ২৩ জানুয়ারি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে “অযৌক্তিক” বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “এমন দাবি সম্পর্কে রাষ্ট্রের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।”

মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, “অতি উৎসাহী হয়ে যদি কোনো অযৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করা হয় এবং কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ব্যতীত, এমন অযৌক্তিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়।”

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের “একেবারেই অনমনীয়” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলার বিষয় থাকে, একজন উপাচার্যকে চাইলেই চলে যেতে বলতে পারি না। এই আন্দোলন সমীচীন নয়। এটা বুঝতে হবে।”

এদিকে আন্দোলন শিক্ষার্থীদের একজন বলেছেন, “ভিসি আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক। আমরা তার কাছে সমস্যার সমাধানের জন্য গিয়েছি, তিনি আমাদের পুলিশের মার খাওয়ায়, গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ফোটে। আপইনি কি এরকম কারও অধীনে থাকতে চাইবেন? ভিসি হিসেবে আমরা তাকে চাই না।”

প্রসঙ্গত, দিন দশেক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রভোস্টের দুর্ব্যবহার এবং হলে বিছানা সংকট ও খাওয়ার সমস্যা সমাধানের দাবিতে প্রভোস্ট জাফরিন আহমদ লিজার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে লিজা পদত্যাগ করলেও বর্তমানে তা ভিসি পদত্যাগের এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়।

পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেওয়া ছাত্রীদের উপর হামলা করার অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর। পরে ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের বেধড়ক পিটুনি, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ, সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটার পর থেকে আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি।

About

Popular Links