Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মারধরের পর গৃহকর্মীর কাটা ঘায়ে লাগানো হতো মরিচ!

এ ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহকর্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব। পরে তিনি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৭:২৬ পিএম

কাজের বিনিময়ে হলেও মেয়েরা খেয়ে-পরে ভালো থাকবে, এই আশায় অন্যের বাসায় তাদের কাজে দিয়েছিলেন জ্যোৎস্না বেগম ও বিল্লাল হোসেন দম্পতি। কিন্তু ভালো থাকা তো দূরে থাক, হাসপাতালে শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে ছটফট করছে তাদের মেয়ে ফারজানা আক্তার (১৭)। তার চিকিৎসা চলছে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণ।

চিকিৎসাধীন ফারজানা জানায়, সে, তার ছোট বোন এবং তাদের খালাতো বোন ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে সামিয়া ইউসুফ নামে এক নারীর বাসায় কাজ করতো। সেখানেই দিনের পর দিন গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাদের।

ব্যথায় কাতর ফারজানার অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনায় তাদের মারধর করা হতো। অনেক সময় হাত-পা বেঁধে টয়লেটে ঢুকিয়ে মারধর করা হতো। পরে শরীরের কেটে যাওয়া জায়গায় মরিচের গুড়ো লাগিয়ে দিতো অভিযুক্তরা।

গত ১৭ জানুয়ারি রাতে ফারজানাকে ওই বাসা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

২০ জানুয়ারি কলাবাগান থানায় গৃহকর্ত্রী সামিয়া ইউসুফের (সুমি) বিরুদ্ধে সাধারণ আঘাত, গুরুতর আঘাত, হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করেন ফারহানার বাবা। মামলার পর অভিযুক্ত সামিয়া ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হলেও ২৪ জানুয়ারি জামিন পান তিনি।

জামিনের সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযুক্তের আইনজীবী মো. কাজল রশীদ বিশ্বাস জানান, ফারজানাকে মারধর করা হয়নি। ফারজানার সিস্ট আছে। এই সিস্টের কারণেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে।

তিনি জানান, এর আগেও ফারজানার চিকিৎসা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, ফারজানার সারা শরীরে পানি এসেছে, এমনকি কিডনিতেও পানি জমেছে। আপাতত ওষুধ দিয়ে শরীর থেকে পানি বের করা হচ্ছে। তার শরীরে টিউমার বা সিস্টও পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে, রক্তস্বল্পতা, প্রোটিনস্বল্পতাসহ নানান জটিলতায় ভুগছে সে।  

শরীরের আঘাতের চিহ্নের বিষয়ে তিনি জানান, ফারজানার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত বা দাগ আছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেগুলোর চিকিৎসা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম হাজরা জানান, গত ১৭ জানুয়ারি মেয়েকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেন ফারজানার মা-বাবা। পরে, তাদেরকে নিয়ে ওই বাসায় গেলে অসুস্থ ফারজানাকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। সে রাতেই ফারজানাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। পরে। ওসিসি থেকে তাকে অন্য হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলা হলে তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এসআই শামীম জানান, ফারজানার বাবার করা মামলায় মামলার অভিযুক্ত গৃহকর্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-২। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ২৪ জানুয়ারি জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হন সামিয়া।

About

Popular Links