Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ছাত্রকে চড় মারায় জাবির দুই ছাত্রী বহিষ্কার

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১১:২৫ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের এক ছাত্রকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের ছাত্রী সুমাইয়া বিনতে ইকরামকে এক বছরের জন্য এবং তার সহপাঠী আনিকা তাবাসসুম মীমকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাত আটটায় অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক রাশেদা আখতার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ছাত্রকে চড় মারার ঘটনায় অভিযুক্ত সুমাইয়া বিনতে ইকরামকে এক বছরের জন্য এবং ভুক্তভোগী ছাত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ায় আনিকা তাবাসসুম মীমকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সময় তারা ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না, হলে থাকতে পারবে না, ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে না।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি রাতে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ছয় শিক্ষার্থী বটতলার রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন। বিপরীত দিক থেকে আসছিলেন সুমাইয়া ও তার এক বান্ধবী। এ সময় সুমাইয়া ছয় শিক্ষার্থীকে রাস্তা ছেড়ে দিতে বলেন। তখন ওই ছয় শিক্ষার্থী জানান রাস্তায় যথেষ্ট ফাঁকা জায়গা আছে। পরে সুমাইয়া ও তার বান্ধবী আনিকা উচ্চবাচ্য শুরু করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থীর হস্তক্ষেপে তখনকার মতো বিষয়টি থেমে যায়। পরে সুমাইয়ার ছেলেবন্ধু শিহাব খান দিগন্ত সেখানে যান। তিনি ওই ছয়জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করেন। কথা বলার সময় ওই ছাত্রী পেছন থেকে গিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রকে শার্টের কলার ধরে উপস্থিত সবার সামনে চড় মারেন। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোরগোল শুরু হয়। পরে ওই ছাত্রী ও তার বান্ধবী বটতলার একটি দোকানে ঢুকে পড়েন।

এরপর রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষই লিখিত বক্তব্য জমা দেয়। মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি বডির মিটিংয়ে অভিযুক্তদের বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয় যা পরবর্তীতে সিন্ডিকেট সভায় পাশ হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা নিপা বলেন, “আমরা ছয়জন বন্ধু বটতলার রাস্তায় বাম পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম। তখন দুজন অপরিচিত মেয়ে ডান পাশ দিয়ে আমাদের ঔদ্ধতভাবে অতিক্রম করছিল। তারা উচ্চস্বরে বলছিল রাস্তায় সাইড দিয়ে চলতে পারেন না। তখন আমাদের একজন বলল রাস্তা তো ফাঁকা আছে। এ সময় একটি মেয়ে অসংলগ্ন উচ্চবাচ্য শুরু করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এরপর এসব সহ্য করে আমরা স্থান ত্যাগ করি।”

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী কাজী বিজয় বলেন, “এই ঘটনার আধা ঘণ্টা পরে অভিযুক্তের বন্ধু বটতলার একটি খাবারের দোকানে আমাদের ডাকে ৷ এ সময় আমরা ঘটনার বিবরণ বর্ণনা করছিলাম। কিন্তু আকস্মিকভাবে অভিযুক্ত ছাত্রী পেছন থেকে এসে আমার সহপাঠীকে গালে চড় দেয় ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এরপরে অভিযুক্তের বন্ধু দিগন্ত তার বান্ধবীকে নিয়ে অন্য একটি দোকানের মধ্যে চলে যায়।”

About

Popular Links