Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাস ছিনতাইয়ের পর যাত্রী তুলে চলতো ডাকাতি

ডাকাত চক্রের হাত থেকে বেঁচে ফিরে ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম এ ঘটনার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানালে অভিযানে নামে পুলিশ

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ০৭:২৮ পিএম

যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীরাও বেছে নিচ্ছে নিত্যনতুন কৌশল। তাদের অভিনব পন্থার সামনে প্রায়ই আর্থিক লোকসানের পাশাপাশি জীবন বিপন্ন হচ্ছে সাধারণ মানুষের। সম্প্রতি এমনই এক দুর্ধর্ষ ডাকাতদলকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাফিজ আক্তার এ কথা জানান।

পুলিশের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে অনলাইন গণমাধ্যম বিডিনিউজ জানায়, চক্রটি প্রথমে যাত্রী সেজে বাসে উঠতো। এরপর অস্ত্রের মুখে বাসের কর্মী ও যাত্রীদের জিম্মি করে নিজেরাই চালক, হেলপার ও যাত্রী সেজে বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও যাত্রী তুলতো। এভাবে একেক জায়গা থেকে যাত্রীদের জিম্মি করে তাদের সর্বস্ব লুটের পর সাভার, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের নির্জন এলাকায় হাত-পা বেঁধে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিতো।

পুলিশ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০ জানুয়ারি রাত ১টার দিকে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে টাঙ্গাইলে যাওয়ার পথে বাসে ডাকাতির শিকার হন টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম ও তার বন্ধু রাকিব।

ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, শফিকুল ইসলামের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে থাকা ৫ হাজার টাকা, দুটি এটিএম কার্ড থেকে আরও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকাসহ মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয়। এরপর তার হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁধে বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়।

ডাকাতদের হাত থেকে বেঁচে ফিরে এ ঘটনার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানান ডা. শফিকুল।

বিষয়টি নজরে এলে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতচক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাফিজ আক্তার আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।

আটক ডাকাতরা হলো- মো. আবু জাফর বিপ্লব, মো. আলামিন, মো. সজিব মিয়া, মো. জহুরুল ইসলাম, মো. নাইমুর রহমান নাইম, মো. আলামিন, শাহনেওয়াজ ভূইয়া আজাদ ও দিলীপ ওরফে সোহেল।

অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চক্রটি “আর কে আর” পরিবহনের বাসটি ভাড়া নেওয়ার কথা জানিয়ে সাভারের গেন্ডা এলাকায় নিয়ে যায়। পরে, বাসের ড্রাইভার ও হেলপারকে জিম্মি করে নিজেরাই বাসটি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী তুলে তাদের লুট করতে থাকে।

তিনি আরও জানান, চক্রটির কাছে দেশি অস্ত্র, ১০টি মোবাইল ফোন, দুটি খেলনা পিস্তল ও নগদ ৯ হাজার ৮০০ টাকা পাওয়া গেছে। চক্রটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি ডাকাতির মামলা করা হয়েছে।

About

Popular Links