Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অসহায় নারীর ভাগ্য বদলে দিল পুলিশ

জেলা পুলিশের নিজস্ব অর্থায়নে নারীর জন্য একটি টিনের ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি মুদি দোকানও করে দেওয়া হয়েছে তাকে

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৫৩ পিএম

মাথা গোজার ঠাঁই পেলেন ফরিদপুর শহরের চুনাঘাটা এলাকার অসহায় দরিদ্র নারী মাহফুজা বেগম। জেলা পুলিশের নিজস্ব অর্থায়নে নারীর জন্য একটি টিনের ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি মুদি দোকানও করে দেওয়া হয়েছে তাকে।

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে মাহফুজা বেগমের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বিপিএম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রঙিন টিন দিয়ে দুই রুমের একটি ঘর, পাশেই একসঙ্গে রয়েছে রান্নাঘর এবং ওয়াশরুম। ঘরের তার ইবাস্টিন দিয়ে ঘেরা। মূল ঘরে ঢোকার পথে জানালার পাশে রয়েছে একটি কাঁঠাল গাছ। পুলিশের পক্ষ থেকে একটি আম গাছ রোপণ করা হয়েছে। এ ঘরেই বসবাস করবেন মাহফুজা বেগম ও তার ছেলে শেখ মারুফ।

জানা যায়, পৌরসভার চুনাঘাটা এলাকার বাসিন্দা মাহফুজা বেগম (৪৮)। স্বামী আবুল কালাম মারা গেছেন দীর্ঘদিন আগে। শেখ মারুফ নামে এক ছেলে সন্তান রয়েছে তার। ছেলেটির পায়ে সমস্যা থাকায় কোনো কাজ ঠিকমতো করতে পারে না। তিনি প্রথমে বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একসময় সে কাজ বন্ধ হলে নামেন ভিক্ষাবৃত্তিতে।

স্বামীর রেখে যাওয়া মাত্র তিন শতাংশ জমির উপর একটি ছাপরা ঘরে বসবাস করতেন মাহফুজা বেগম। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। এই খবর পেয়ে মাহফুজা বেগম পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে তার দুরবস্থার কথা জানালে পুলিশ সুপার তার থাকার জন্য একটি ঘর ও জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি মুদি দোকান করে দেন।

জেলা পুলিশের রিজার্ভ অফিসার এস আই আনোয়ার হোসেন বলেন, “এসপি স্যারের কাছে মাহফুজা বেগম তার দুরবস্থার কথা জানালে স্যার ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নিতে বলেন। ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে সত্যতা পাওয়া। আসেলই তিনি খুব মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। এসপি স্যারকে বিষয়টি অবগত করা হলে স্যারের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের অর্থায়নে ওই নারীর একটি টিনের ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, “ঘরের পাশাপাশি ওই নারী ও তার ছেলের জীবিকা নির্বাহের জন্য বাড়ির উপরই একটি মুদি দোকান করে দেওয়া হয়েছে।”

ঘর পেয়ে খুশি মাহফুজা বেগম। তিনি বলেন, “এর আগে শুনেছিলাম এসপি স্যার মানুষরে অনেক উপকার করেন, এবার নিজেই তার প্রমাণ পেলাম। ঘরটি পেয়ে এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারবো। ঘরের পাশাপাশি স্যার একটি মুদি দোকানও করে দিয়েছেন। সেখান থেকে যা রোজগার হবে তা দিয়ে ভালোভাবে চলতে পারবো।”

তিনি আরও বলেন, “এখন আর বৃষ্টির দিনে ঘর দিয়ে পানি পরবে না। শীতেও কষ্ট হবে না। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে ভালোভাবে জীবনের বাকি দিনগুলো পার করতে পারবো। এসপি স্যার অনেক ভালো একজন মানুষ, স্যারের জন্য দোয়া করি।”

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বিপিএম বলেন, “অসহায় মানুষের পাশে সব সময় দাঁড়িয়েছে জেলা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় অসহায় মাহফুজা বেগমকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে একটি মুদি দোকানও করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের পাশে থাকবে জেলা পুলিশ।”

About

Popular Links