Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নুডুলস চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বেঁধে তরুণকে নির্যাতন

অভিযুক্তের দাবি, ওই তরুণকে 'ভালো পথে' ফিরিয়ে আনার জন্যই এভাবে শাস্তি দিয়েছেন তিনি

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৩:২৩ পিএম

নুডুলস ও নারিকেল তেল চুরির অভিযোগে চুয়াডাঙ্গায় শেখ আমানুল্লাহ নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে খুঁটিতে বেঁধে সাদ্দাম হোসেন (২২) নামে এক তরুণকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার সাদ্দাম হোসেন আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার হাফিজ মোড়ে শেখ ট্রেডার্সে এ ঘটনা ঘটে। পরে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, খুঁটিতে বাঁধা সাদ্দামকে একটি লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন ব্যবসায়ী শেখ আমানুল্লাহ। আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকে সেই দৃশ্য দেখছেন। তবে সে সময় কাওকে মারধোর ঠেকাতে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।

স্থানীয়রা জানায়, আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার হাফিজ মোড়ে শেখ ট্রেডার্সের মালিক ব্যবসায়ী শেখ আমানুল্লাহ বিভিন্ন পণ্যের ডিলার। মঙ্গলবার দুপুরে একটি গাড়িতে অর্ডারের পণ্য আনলোড করছিল। এ সময় সাদ্দাম হোসেন ওই গাড়ি থেকে নুডলস ও কিছু মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে ধরে আমানুল্লাহর কাছে হস্তান্তর করে। পরে আমানুল্লাহ প্রকাশ্যে দোকানের খুঁটিতে সাদ্দামের দুই হাত বেঁধে একটি পাইপ দিয়ে নির্যাতন করে।

ব্যবসায়ী শেখ আমানুল্লাহ বলেন, “বিভিন্ন সময়ে আমার প্রতিষ্ঠানের চুরির ঘটনা ঘটতো। এতে আমি অতিষ্ঠ ছিলাম। কিছুতেই চোর ধরতে পারতাম না। আজ কিছু নারিকেল তেল ও নুডলসের প্যাকেট চুরির সময় হাতেহাতে সাদ্দামকে ধরে স্থানীয়রা আমার কাছে নিয়ে আসে।”

সাদ্দামকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করে তার দাবি, “ভালো পথে” ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি সাদ্দামকে এভাবে শাস্তি দিয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা মানবতা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট মানি খন্দকার  বলেন, “দোকানের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা যদি সত্যি হয় তাহলে এটা বড় অপরাধের মধ্যে পড়ে। যতই অপরাধই করুক না কেন, কেউ আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না। তাকে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করতে হবে। নির্যাতনের শিকার হওয়া যুবক বা তার পরিবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে মানবতা ফাউন্ডেশন থেকে তাকে বিনামূল্যে তার সব রকমের সহযোগিতা করা হবে।”

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ খবর পেয়ে সন্ধ্যায় সাদ্দামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নির্যাতনের বিষয়টি পুলিশের জানা ছিল না। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিও দেখেছি। এভাবে কেউ আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না। রাতেই শেখ আমানুল্লাহকে পুলিশ জিজ্ঞাসাদের জন্য আটক করে থানায় আনা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সাদ্দাম হোসেন একজন ছোটখাটো অপরাধী। তার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় একটি চুরি ও একটি ছিনতাই মামলা চলমান। একবার পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিল সে। এছাড়া, চুরির ঘটনায় এখনো কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। নির্যাতনের ঘটনায় সাদ্দাম বা তার পরিবার অভিযোগ করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

About

Popular Links