Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রাবি শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক আটক

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজের পাথর বহনকারী ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারান চারুকলা অনুষদের ছাত্র মাহমুদ হাবিব হিমেল

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:২৭ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাক চাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রাকচালক টিটু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রথমে তাকে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় নেওয়া হলেও পরে তাকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজের পাথর বহনকারী ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারান চারুকলা অনুষদের ছাত্র মাহমুদ হাবিব হিমেল। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পাঁচটি ট্রাকে আগুন দেয়। পরে তারা রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক ও ভিসির বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। গভীর রাতে সিটি মেয়র ও ভিসি গিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি মানার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, নিহতের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিহতের বোনকে চাকরি দিতে হবে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাল্টাতে হবে, প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হিমেল নিহতের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিচার করতে হবে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে হিমেলের মরদেহ নাটোর পাঠানো হয়। এর আগে সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মামা মো. মুন্না বলেন, “হিমেলের চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কষ্টকর। আমার বোন আগে স্বামী-হারা ছিলেন, আর এখন সন্তানহারা হয়ে গেলেন। এই কষ্ট মেনে নেওয়া কঠিন। তবে ভবিষ্যতে যেন এমন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকে নজর দিতে হবে। আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি হয়ে না যায়।”

এ সময় হিমেলকে শেষ বিদায় জানায় তার সহপাঠীরা। তারা বলেন, “আর কত শিক্ষার্থী মারা গেলে সড়কে নিরাপত্তা আসবে। এটা হাইওয়ে ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ছিল। তারপর‌ও চালকের অনভিজ্ঞতার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। চালকদের ঠিকমতো প্রশিক্ষণ দিয়ে, টাকার বিনিময়ে ড্রাইভার লাইসেন্স দেওয়া হয়। এগুলো বন্ধ না হলে আমাদের বন্ধুর মতো অনেক হিমেলকে হারিয়ে যেতে হবে।”

হিমেলের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, “ক্ষতিপূরণ নিয়ে হিমেলের মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার জায়গা থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী এই ক্ষতিপূরণ আমরা দিতে পারবো। হিমেলের মায়ের ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমা হয়ে যাবে। এটা নিয়ে আমরা  শিক্ষকদের সঙ্গে বসবো। ক্ষতিপূরণ আরও বাড়াতে পারলে তা দেওয়া হবে। তার পরিবারের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থাকবে। আহত আরেক শিক্ষার্থীর খরচও আমরা বহন করবো। তারা তো আমাদেরই সন্তান।”

About

Popular Links