Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দুস্থ ও অসুস্থ সেজে প্রতারণা করে ‘সাহায্য’ তুলতো চক্রটি

এই প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অসুস্থ ব্যক্তিদের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে হাতিয়ার করে অর্থ সহায়তা চেয়ে আসছিল

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৪:৫৮ পিএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হাজারো পোস্টের ভিড়ে মাঝে মাঝেই সাহায্য প্রার্থনা কমবেশি সবারই চোখে পড়ে। পরিবারের কোনো সদস্য, পরিচিত কোনো বন্ধু বা সহকর্মীর চিকিৎসার জন্য বিশাল অংকের অর্থের প্রয়োজনে অনেকেই এগিয়ে আসেন।

তাদের উদ্দেশ্য সৎ হলেও অনেকেই অর্থ সংগ্রহের সহজ পথ হিসেবে বেছে নিচ্ছে মানুষের মানবিকতাকে। সম্প্রতি তেমনই একটি প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগ।

মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি’র সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফেসবুক পেজ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) নিয়মিতভাবে দুঃস্থ ও অসহায়দের সেবা করে আসছে। সেই সূত্র ধরেই কিছুদিন আগে ফেসবুকে মো. জুয়েল রানা নামে এক ব্যক্তির পোস্ট নজরে আসে তাদের। পোস্টে অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার জন্য সবার সহযোগিতা চাইছিলেন তিনি। পুনাকের বর্তমান সভানেত্রী বিষয়টি জানার পর তাকে সাহায্য নিতে ডাকেন। কিন্তু সাহায্যপ্রার্থী হাজির না হয়ে বাহানা শুরু করলে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে, একই শিশুর ছবি ব্যবহার আরেকটি পোস্ট দেখার পর পুনাক কর্তৃপক্ষের সন্দেহ দৃঢ় হয় এবং তারা সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগের কাছে বিষয়টি অনুসন্ধান করার অনুরোধ জানান।

সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগের অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, এই প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অসুস্থ ব্যক্তিদের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে হাতিয়ার করে অর্থ সহায়তা চেয়ে আসছিল। এ ধরনের প্রতারণার কাজে তারা ফেসবুকের বিভিন্ন নকল আইডি ব্যবহার করতো। অনুসন্ধান থেকে জানা যায় মো. জুয়েল রানা ও বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী বিশ্বাস নামের দুটি নকল আইডি ব্যবহার করে “নক্সে বন্দী হাসানুর রহমান হোসাইন সাইবার টিম” এবং “আমরা বৃহত্তর পুরান ঢাকাবাসী” নামে দুটি গ্রুপসহ অন্তত ২৭টি ফেসবুক গ্রুপ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

পরে, সিটি-সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগ প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

ডিএমপি জানায়, তদন্তের তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এসি ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপের নেতৃত্বে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ও রংপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরা হলেন- মো. রেজাউল ইসলাম (৪০), মো.  তানভীর আহাম্মেদ (৩০),মো. হাফিজুল ইসলাম (২৪) এবং মো. মেহেদী হাসান আকাশ (১৯)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ২৭টি ফেসবুক আইডি, ১০টি মোবাইল ফোন, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টসহ ১৫টি সিম কার্ড ও নগদ দুই লাখ টাকা পাওয়া গেছে।

ডিএমপি আরও জানায়, চক্রটির নামে ইতোমধ্যে রমনা মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ২৩/২৪/২৫/৩৫ ধারা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও, তদেরকে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।


About

Popular Links