Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

থমকে গেছে সোনা মিয়ার সংগ্রামী জীবন

একদিন সকালে উঠে তিনি বুঝতে পারলেন একটি চোখ কাজ করছে না। অপারেশনের পরে তিনি দুই চোখেরই দৃষ্টি হারান

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:৫৮ পিএম

দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম সোনা মিয়ার (৩০)। পঞ্চম শ্রেণি পাশ করার আগেই ধরতে হয় সংসারের হাল। শ্রমিকের কাজ করে কিনেছিলেন একটি ভ্যান। তবে হঠাৎ দৃষ্টি হারিয়ে থমকে গেছে তার লড়াই। ঘরের এক কোণে পড়ে থাকেন। দেখতে পাননি সদ্যজাত দ্বিতীয় সন্তানের মুখও। আঁধার হাতড়ে অসহায় দিন কাটে তার। জীবন যেন থমকে গেছে এই তরুণের।

পাঁচ বছরের এক মেয়ে ও ৬ মাস বয়সী এক ছেলের বাবা সোনা মিয়া। বাড়ি ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামে। 

২০২০ সালের কথা। প্রতিদিনের মতো ভ্যান চালিয়ে বাড়ি ফিরে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখে আবছা দেখা শুরু করেন। এরপর চিকিৎসকের কাছে গেলে জানতে পারেন তার এক চোখ চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে।

এরপর ওই চিকিৎসক তার চোখ ভালো করতে অপারেশন লাগবে বলে জানান। কিন্তু অপারেশনের পর তার দুই চোখই চিরতরে দৃষ্টিহীন হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে ভ্যান চালানো বাদ দিতে হয় সোনা মিয়াকে। পোশাক কারখানায় কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন তার স্ত্রী।

সোনা মিয়া বলেন, “প্রতিদিনের মতো ভ্যান চালিয়ে এসে রাতে শুয়ে পড়েছিলাম সেদিন। এরপর সকালে আমি চোখে দেখি না। তারপর মানিকগঞ্জের একটি চক্ষু হাসপাতালে যাই। সেখানে ডাক্তার বলেন আমার কপাল খারাপ। তারা আমাকে ইসলামপুরের আরেকটি হাসপাতালে পাঠালেন। সেখানকার ডাক্তাররা বললেন চোখে অপারেশন করে পাওয়ার লাগিয়ে দিতে হবে। তাহলে এক চোখে কিছু হলেও দেখা যাবে।”

সোনা মিয়া আরও বলেন, “সেখানে অপারেশন করার পরও কিছু হলো না। এরপর তারা বললেন ঢাকায় ডাক্তার দেখাতে। ঢাকায় আসার পর ডাক্তার বললেন, ৭০ হাজার টাকা লাগবে অপারেশন করতে। তবে কোনো নিশ্চয়তা নাই। তারপর গেলাম জাতীয় চক্ষু হাসপাতালে। তারা বললেন, কোনো উন্নতিই হবে না। তারপর আর কিছুই হলো না। অন্ধ হয়ে গেলাম চিরতরে।”

তিনি বলেন, “আমি আগেই ভালো ছিলাম। নিজে কাজ করে সংসার চালাতাম। এখন কাজ করতে পারি না। অক্ষম হয়ে ঘরে থাকি। খারাপ লাগে। আমার ছেলে-মেয়ের মুখটাও দেখতে পারি না। উঁচু-নিচু বুঝি না। আমি চাই আমার দুইটা চোখ ভালো হয়ে যাক। কেউ সহযোগিতা করলে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকতাম।”

সোনা মিয়ার মা তারা বানু বলেন, “ছেলেটা ভালো থাকলে সব আবদার মিটাইতো। এখন নিজে কিছু করতে পারে না। ছেলে-মেয়ের মুখ দেখতে পারে না। আমার ছেলেটার চোখ যেন ভাল হয়ে যায়।”

বাবার সঙ্গে কখনো স্কুলে গিয়েছ কি-না জানতে চাইলে সোনা মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া বলে, “বাবাকেই উল্টো ধরে হাঁটাতে হয় আমার।”

তবে সোনা মিয়া চান ফের ছেলেমেয়ের আবদার মেটাবেন। হাত ধরে ঘুরতে নিয়ে যাবেন। আদৌ তার চোখ ভালো হবে কি-না, জানেন না তিনি।

About

Popular Links