Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পুলিশের ওয়াকি-টকি পাঁচ মাস ছিল ছিনতাইকারীর কাছে

গত ১১ সেপ্টেম্বর নগরীর একটি থানা থেকে ওয়াকিটকি সেটটি হারিয়ে যায়

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৪:৫২ পিএম

গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দিয়ে তল্লাশির নামে এক ব্যক্তির টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার সময় রাজশাহীতে এক ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে তার ভাইও। এ সময়ে সেই ছিনতাইকারীর কাছে পুলিশের একটি ওয়াকি টকি পাওয়া গিয়েছে।

গত ২৯ জানুয়ারি রাজশাহী নগরের শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় ওই ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া ওয়াকিটকিটি নগরের বোয়ালিয়া থানার, যা গত ১১ সেপ্টেম্বর হারিয়ে যায়।

এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণ।

আটক ছিনতাইকারীর নাম মাভেল ইসলাম (২৪)। পুলিশ তার ভাই নেহাল ইসলাম ওরফে নিরোকেও (২২) আটক করেছে। তাদের বাড়ি রাজশাহী নগরের শাহমখদুম থানার বড়বনগ্রাম বাগানপাড়া এলাকায়। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

৩০ জানুয়ারি তাদের আদালতে পাঠিয়ে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল। মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সেই রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তাদের দুজনকে কারগারে রাখা হয়েছে।

ছিনতাইকারীর হাতে ওয়াকি টকি সেট পাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করতে রাজশাহী নগর পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মজিদ আলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ওয়াকিটকি-সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তের জন্য বোয়ালিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন, তার কাছে কোনো চিঠি আসেনি।

পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াকি টকি সেটটি হারানোর দিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বোয়ালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ফেরদৌসের নামে বরাদ্দ ছিল। ডিউটি শেষে তিনি তা ওয়্যারলেস অপারেটর আবদুল আউয়ালের কাছে বুঝিয়ে দেন। একই সময় ডিউটি বদলের সময় আউয়াল সেটি বুঝিয়ে দেন আরেক অপারেটর মো. আমানের কাছে। তারপর ওয়াকি টকিটি কীভাবে ছিনতাইকারীর হাতে গেলো, তা এখনও রহস্যাবৃত।

পাঁচ মাস আগে থানা থেকে ওয়াকিটকি সেট হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করলেও এ বিষয়ে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। ওসি নিবারনকে সম্প্রতি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তার পোস্টিং খাগড়াছড়ির মহালছড়ির এপিবিএনের ৬ ব্যাটালিয়নে। সেখান থেকেই তার বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহীতে তদন্ত কমিটির কাছে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।

পুলিশের ধারণা, ঘটনার দিন বেলা ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে ওয়াকি টকি সেটটি হারায়। বোয়ালিয়া থানার করিডোরের ওই সময়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এ ক্ষেত্রে তদন্তে কাজে সহায়ক হতে পারে।

মো. আমান জানান, তিনি রাত ৮টায় কাজ শেষ করে ওই ওয়াকি টকি সেট আবার আওয়ালের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কি-না, তা মনে করতে পারছেন না।

বোয়ালিয়ার সাবেক এসআই মনিরুল বর্তমানে আরএমপির মতিহার থানায় দায়িত্বরত। তিনি জানান, ১১ সেপ্টেম্বর গণটিকার ডিউটি শেষ করে এসে তিনি ওয়্যারলেস অপারেটর আউয়ালের কাছে ওয়াকি টকি সেট বুঝিয়ে দেন। এরপর আউয়াল আরেক অপারেটর আমানের কাছে ডিউটি হস্তান্তর করেন। তারপর কী হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না।

তদন্ত কমিটির প্রধান আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মজিদ আলী ছুটিতে থাকার কারণে তিনি এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমকে কিছু বলতে রাজি হননি।

About

Popular Links