Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সেতুতে ওঠানামায় লাগে মই!

সান্ত্বনা স্বরূপ এই ব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজন ছিল না উল্লেখ করে এলাকাবাসী ব্রিজটি ভেঙে ফেলার দাবি জানান

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৪:৩৫ পিএম

এলাকাবাসীর দাবিতে প্রায় ৬ বছর আগে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বংশাই নদের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে, অর্ধযুগ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।

সংযোগ সড়ক না হওয়ায় যানবাহন চলাচল তো দূরে থাক, মই দিয়ে হেঁটে ব্রিজে উঠতে হয় এলাকাবাসীকে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালেও গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ধোপাখালী বাজার সংলগ্ন বংশাই নদের ওপর অবস্থিত এ ব্রিজটিতে শুষ্ক মৌসুমে কাঠের মই দিয়ে ওঠা-নামা করলেও বর্ষাকালে সেই ব্যবস্থাও বন্ধ রাখতে হয়। 

এলাকাবাসী জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এডিপির অর্থায়নে স্থানীয় এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজটি নির্মাণ করে। ব্রিজের একপাশে ধোপাখালী ও আরেক পাশে যদুনাথপুর ইউনিয়ন। নির্মাণের পর থেকে আজ পর্যন্ত দুই ইউনিয়নের আট থেকে দশ গ্রামবাসীর কোনো কাজেই আসেনি ব্রিজটি।

বিষয়টি উপজেলা এলজিইডি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানালেও বিগত কয়েক বছরে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সান্ত্বনা স্বরূপ এই ব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজন ছিল না উল্লেখ করে এলাকাবাসী ব্রিজটি ভেঙে ফেলার দাবি জানান।

যদুনাথপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা তসলিম উদ্দিন বলেন, “উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মীর ফরিদ আহমেদের দায়িত্বকালে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। সে সময় কোনো রকমে মাটি ফেলে দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক করা হয়েছিল। কিন্তু, বর্ষার পানি নদীতে আসার পরপরই সড়কের মাটি ধসে নদীতে চলে যায়। ফলে এখন মই দিয়ে ব্রিজে উঠতে হয়।”

টাঙ্গাইলের বংশাই নদের ব্রিজ ঢাকা ট্রিবিউন

তিনি আরও জানান, ইসলামপুর গ্রাম থেকে উপজেলা সদরে যেতে ভাড়া ও সময় লাগে অনেক বেশি। ধোপাখালীর পাড়েই স্থানীয় বাজার। সেখানে নিত্য প্রয়োজনীয় সব কিছু পাওয়া যায়। বর্ষা মৌসুমে আর বাজারে যাওয়া যায় না। বর্ষার সময় শিক্ষার্থীরাও ওপাড়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। নৌকায় চলাচল করতে হয়।

আরেক বাসিন্দা সেকান্দর আলী বলেন, “আমরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানালেও কোনো কাজ হয়নি। কেউ গুরুত্ব দেয় না। তাদের কাছে গেলে শুধু বলে ‘দেখছি’। এই ব্রিজ থাকলেও যা, না থাকলেও তাই। এই ব্রিজ দিয়ে আমরা করবো কী?”

ধোপাখালী ইউনিয়নের ধোপাখালী গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম ব্রিজটি আমাদের অনেক উপকারে আসবে। এলাকার মানুষ কৃষি কাজ করে জীবন চালায়। তাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই।”

এ বিষয়ে ধোপাখালীর ইউপির স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, “রাস্তাটির ব্যাপারে আমি একাধিকবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনার রশীদ হীরা সাহেবকে বলেছি। তিনি ঠিক করে দিতে চেয়েছেন। এরপর আর কোনো ব্যবস্থাই নেননি।”

আশ্বাস দিয়ে ধোপাখালীর চেয়ারম্যান আকবর হোসেন বলেন, “এ বছরই রাস্তাটি করে দেওয়া হবে।”

ধনবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন সাগর বলেন, “এলাকাবাসীর দুর্ভোগ এড়াতে এ বছরই ব্রিজের দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে।”

About

Popular Links