Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাতক্ষীরার যে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ বছরের ৯ মাস থাকে পানিভর্তি

 সমনডাঙা স্কুলের শ্রেণিকক্ষ বছরের ৯ মাস কচুড়িপনাযুক্ত হাঁটু পানিতে ভর্তি থাকে। নেই দরজা-জানালা

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৫১ পিএম

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সমনডাঙা স্কুলের শ্রেণিকক্ষ বছরের ৯ মাস কচুড়িপনাযুক্ত হাঁটু পানিতে ভর্তি থাকে। নেই দরজা-জানালা। নেই উপযুক্ত স্কুল ভবন। শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলছে নানা সংকট নিয়ে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার মান। ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থী।

জানা যায়, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের সমনডাঙা সরকারি প্রাথমিক স্কুলটি ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। তবে কয়েক বছর ধরে ভবনটির ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়তে থাকে। এছাড়াও বছরের ৯ মাস পুরো ভবনটি হাঁটু পানির নিচে থাকতে দেখা যায়।

তাই বিকল্প ব্যবস্থায় স্কুলের খেলার মাঠের এক কোণে একটি টিনের চাল দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। যেখানে রাখা হয়েছে একটি টেবিল ও ৫টি বেঞ্চ। এতে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই শিক্ষা অর্জন করছে।

মাসুম হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলে, “করোনাভাইরাসের কারণে আমদের স্কুল অনেক দিন বন্ধ ছিল। আমাদের স্কুলের দরজা জানলা নেই। বছরের অধিকাংশ সময় কচুড়িপনাযুক্ত হাঁটু পানিতে ডুবে থাকে। সেজন্য স্কুলের খেলার মাঠের এক কোণে একটি টিনের চাল দিয়ে আমাদের পাঠদান করানো হচ্ছে।”

অভিভাবক আল মামুন বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না। দুটি উপজেলা ও ইউনিয়নের শেষ প্রান্ত হওয়াতে অবহেলিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। শ্রেণিকক্ষে ও খেলার মাঠে জমে থাকা পানিতে শিক্ষার্থীদের পানিবাহিত রোগ হয়।”

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন হোসেন বলেন, “এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে সু-শিক্ষায় গড়ে তুলতে হলে মাছের ঘেরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে ভবনটি দ্রুত পুনঃনির্মাণ করতে হবে।”

নগরঘাটার সমনডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমল কৃষ্ণ সরকার বলেন, “৫১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছি। দেখেছেন তো কি অবস্থা, কিভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করবো। কোনো পরিবেশ নেই। আমদের নিজেদেরও খারাপ লাগে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করেছে একাধিকবার কোন কোন কাজে আসছে না। অনেক শিক্ষার্থী আমার স্কুল থেকে চলে গেছে।”

তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০১৯ সালে নতুন ভবন তৈরির বাজেট ছিল কিন্তু ভবন তৈরির জন্য মালামাল পৌঁছানোর ব্যবস্থা না থাকাতে বাজেটটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে এলাকাটি নিচু হওয়ায় বন্যায় পানি উঠে যায়। সেখানে নতুন করে সাইক্লোন শেল্টার করার জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।

About

Popular Links