Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট

প্রতিষ্ঠার ১২ বছরেও ভাষা আন্দোলন নিয়ে হয়নি গবেষণা

সেমিনার আয়োজন, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ, নিউজলেটার, সাময়িকী এবং স্মারকলিপির মতো কিছু সামান্য কাজ ছাড়া ভাষা সংরক্ষণের জন্য নির্মিত একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:০৫ পিএম

বাংলা ভাষা ও বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের গবেষণা চালানো এবং গবেষণার তথ্য দেশে ও দেশের বাইরের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্যে ১২ বছর আগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠার এক যুগেও প্রতিষ্ঠানটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো গবেষণা হয়নি। তাছাড়া, বাংলাদেশে প্রচলিত সব ভাষার জনসংখ্যাগত সমীক্ষাও গত চার বছর ধরে স্থবির হয়ে আছে।

সেমিনার আয়োজন, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ, নিউজলেটার, সাময়িকী এবং স্মারকলিপির মতো কিছু সামান্য কাজ ছাড়া ভাষা সংরক্ষণের জন্য নির্মিত একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানটি আসল লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এ স্থবিরতার জন্য কর্মকর্তারা প্রশাসনিক ত্রুটি, সঠিক গবেষণা নির্দেশিকা না থাকা এবং অর্থের অভাবকে দায়ী করেছেন।

এক দশকে মাত্র একটি গবেষণা খণ্ড

নৃতাত্ত্বিক এবং ভাষাবিদদের নিয়ে গঠিত ৪০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ২০১৫ সালে বাংলাদেশের জাতিগত ভাষাগুলোর ওপর একটি বিশাল জরিপ শুরু করে। সেই কমিটি ২০১৬ সালে জরিপটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেয় এবং ২০১৮ সালে তাতে আরও তথ্য সংযোজন করে।

২০১৯ সালে সেই সমীক্ষার প্রথম খণ্ডটি জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়। তখন ওই সমীক্ষার আরও দুটি খণ্ড নিয়ে কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছিল। কিন্তু সেগুলো আর পরে প্রকাশিত হয়নি। 

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক (প্রকাশনা) সঙ্গিতা রুদ্র জানান, এ বছরের ২৬ মার্চের পর আরও দুটি খণ্ড ছাপানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার ভাষ্যমতে, ভাষা আন্দোলন নিয়ে এ মুহূর্তে অন্য কোনো গবেষণার কাজ করা হচ্ছে না।

সময় ফুরিয়ে আসছে

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (ভাষা, গবেষণা ও পরিকল্পনা) অধ্যাপক মো. সফিউল মুজ নবীন জানান, কিছু প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে তাদের উদ্যোগে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন নিয়ে কোনো গবেষণা করা হয়নি।

গবেষক ড. আফসান চৌধুরী বলেন, “সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তিযুদ্ধকে দেখলে এর সূচনা হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে।”

ভাষা আন্দোলনের গবেষক এবং জাতীয় মুক্তি পরিষদের প্রধান বদরুদ্দিন উমর ২০১৬ সালে জানিয়েছিলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বাংলাদেশে তেমন গুরুত্ব পায়নি। তাই জাতি স্বাধীনতার পথ প্রশস্তকারী মহান আন্দোলনের বিবরণ সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে না।

অধ্যাপক মুনতাসির মামুন ২০১৯ সালে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে পরিমাণ গবেষণা হওয়া উচিত ছিল তার চেয়ে অনেক কম এবং ভাষা আন্দোলন নিয়ে তার চেয়েও আরও কম গবেষণা করা হয়েছে।

তখন তিনি বলেছিলেন, “সবচেয়ে বাজে দিকটি হলো ভাষা আন্দোলনের প্রায় ৭০ বছর পর বর্তমানে সেই সময়ের খুব কম প্রত্যক্ষদর্শী জীবিত আছে। তাই গবেষণার জন্য বাকি থাকা সুযোগগুলো কাজে লাগানোর জন্য তাৎক্ষণিক উদ্যোগ প্রয়োজন।”

বদরুদ্দিন উমর জানান, ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষণার অভাবে ভাষা আন্দোলনে অবদান না রাখা অনেকেই আন্দোলনের সময় নিজেদের ভূমিকাকে জাহির করে মহিমান্বিত করার সুযোগ পেয়েছে। ফলে তার আশঙ্কা, এ কারণে বিশেষ দিনটির তাৎপর্য কমে যাবে এবং ভবিষ্যতে জাতি বিভ্রান্ত হবে।

বাজেট বরাদ্দ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সাফিউল জানান, গবেষণায় স্থবিরতার পেছনে অর্থ বরাদ্দের ঘাটতিকে দায়ী করা যেতে পারে। অন্যদিকে, এত বছরে কোনো স্পষ্ট কৌশল বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি একটি সুনির্দিষ্ট গবেষণার জন্য বাজেট প্রস্তুত করতেও হিমশিম খাচ্ছে।

নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, একটি সম্পূর্ণ নির্দেশনা প্রণয়নের পর্যায়ে রয়েছে।

অর্থ বিভাগের কাছে নির্দেশনাটি অনুমোদন পেলেই সব জটিলতার অবসান হয়ে এপ্রিলে ইতিবাচক পরিবর্তনের ব্যাপারে আশাবাদী অধ্যাপক সাফিউল।

ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের মতে, কয়েক বছর আগে নির্দেশিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে এবং ২০২০ সাল থেকে অধ্যাপক সাফিউল এটি নিয়ে কাজ করেছিলেন।

অধ্যাপক সাফিউল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি একাধিকবার অনুমোদনের জন্য নির্দেশিকা পাঠিয়েছি। গত বছর এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পায়। নির্দেশনাটি শেষ পর্যন্ত গত বছরের অক্টোবরে অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে তথ্য প্রচারের জন্য সেগুলো সঠিক হওয়া আবশ্যক। ভাষা আন্দোলন হলো প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা আশা করছি, আগামী মাসগুলোতে গবেষণা বিষয়ক সব ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে।”

এছাড়া, এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থী, অধ্যাপক এবং ফ্রিল্যান্স গবেষকরাও গবেষণার জন্য তহবিল পাবেন বলে জানান তিনি।

নির্দেশনায় ছাত্র এবং পেশাদার গবেষকদের গবেষণায় যুক্ত হওয়ার জন্য একটি সুবিধাজনক কাঠামো রয়েছে কারণ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট দেশ-বিদেশের গবেষকদের গবেষণায় আগ্রহী করতে চায়।

About

Popular Links