Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জন্ম নিবন্ধন সনদের ফি ৫০ টাকা, গুনতে হয় ৫শ’ থেকে হাজার টাকাও

এমনকি জন্ম নিবন্ধনের সনদে বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকাও দাবি করেন ওই ব্যক্তি

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৩:১৮ পিএম

জন্ম নিবন্ধন সনদ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মকর্ত শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়মনীতি না মেনে জন্মসনদ প্রতি ৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা আদায় করছেন তিনি। এমনকি জন্ম নিবন্ধনের সনদে বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জেলা পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকার জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিনা ফি’তে দেওয়া বিধান রেখেছে। শিশুর বয়স ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা ও ৫ বছরের ওপরে সব বয়সীদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন ফি ৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এছাড়া জন্ম নিবন্ধনের জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন ফি ১ শ’ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার ।

জন্মনিবন্ধন নিতে আসা বর্ণি গ্রামের ছলেমান জমাদ্দারের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর শিমুল বিশ্বাস জন্ম সনদ ডিজিটাল করতে ১ হাজার নিয়ে থাকেন। এছাড়া বয়স সংশোধনে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন।

বর্নি ইউনিয়নের বাসিন্দা কাজলী বেগম জানান, আমার ১৮ বছর বয়সী মেয়ের জন্ম নিবন্ধনের জন্য সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিয়েছি। আমাকে এক সপ্তাহ পরে আসতে বলে হিসাব সহকারী শিমুল। এক সপ্তাহ পরে গেলে বলে জন্ম নিবন্ধন করতে ২ হাজার টাকা দাবি করেন। তাই জন্ম নিবন্ধন না করেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

দক্ষিণ বর্নি গ্রামের রাঙ্গা হোসেনের স্ত্রী সোমা বলেন, ১৮ বছর বয়সী মেয়ে ও আমার জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে শিমুল বিশ্বাসকে ৭ শ’ টাকা দিয়েছি। কিন্তু দুই মাস ধরে ঘুরে ও সেই জন্ম নিবন্ধন এখনো পাইনি। 

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত বর্ণি ইউনিয়নের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর শিমুল বিশ্বাস বলেন, “জন্মনিবন্ধনের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ৫০ টাকা। সেখানে ১০০ টাকা নিচ্ছি। আর ১০০ টাকার ফি ১৫০ বা ২শ’ টাকা নেই। কিছু ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যদের জন্ম নিবন্ধন আমরা সরকারি ফি ছাড়াই দেই। তাই সেই টাকা  ‘অ্যাডজাস্ট’ করতে অন্যদের কাছ থেকে  একটু ‘বাড়তি রেট’ নিতে হয়।” তবে ৫ হাজার ১০ হাজার টাকা দাবির বিষয়টি তিনি সত্য নয় বলে জানান।

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, “আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। সরকার নির্ধারিত ফি থেকে বেশি টাকা নেওয়া অপরাধ। সেখানে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি করা হয় কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" জন্ম সনদে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে কেউ পার পাবে না বলেও জানান তিনি।

About

Popular Links