Wednesday, June 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বানাতে বানাতেই দেবে গেলো ডুমুরিয়ার স্কুলটি

কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভবনটি উত্তর দিকে ছয় ইঞ্চি দেবে প্রায় দুই ফুটের মতো হেলে পড়েছে

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:২৬ পিএম

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চারতলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ২০১৯  সালে প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দে এ কাজ শুরু হয়। কিন্তু শেষ হওয়ার আগেই ভবনটি উত্তর দিকে ছয় ইঞ্চি দেবে প্রায় দুই ফুটের মতো হেলে পড়েছে।

উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পার মাদারতলা এলাকার পল্লীশ্রী বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। আর দেবে গিয়ে হেলে পড়া অবস্থায়ই ভবনটিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরা।

ভবনটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে এমএস রহিত এন্টারপ্রাইজ নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের বাস্তবায়নে এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের “নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহে উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ৯০৭ টাকা ব্যয়ে পল্লীশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। খুলনার দৌলতপুরের এম.এস রহিত এন্টারপ্রাইজ কাজটি পায়।

১৮ মাস সময় বেঁধে দিয়ে ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সময়ের দ্বিগুণ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ভবনের ৮০% কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে নির্মাণাধীন ভবনের পেছনের (উত্তর) পাশ দেবে গিয়ে কিছুটা হেলে পড়লেও কাজ অব্যাহত রেখেছেন শ্রমিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভবনটির নির্মাণকাজ শুরুর আগে যথাযথভাবে মাটি পরীক্ষা করা হয়নি। স্কুলের পাশেই একটি পুকুর ছিল, সেটি কয়েক বছর আগে ভরাট করা হয়। ওই জায়গার মাটি পরীক্ষা ছাড়াই পাইলিং শুরু হলে ভবনটি হেলে ও মাটির গভীরে চলে যায়। ক্রেন এনে পাইলিংয়ের যন্ত্র তোলার কারণে প্রায় ৫ মাস কাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই দফায় কাজ শুরুর পর তৃতীয়তলা পর্যন্ত শেষ করা হয়। এক পর্যায়ে ভবন দেবে গেলে উত্তর দিকে হেলে পড়ে। ঠিকাদার আবারও ক্রেন দিয়ে ঠেলে ভবনের নিচে বালু ও ঢালাইয়ের ব্যবস্থা করেন। এরপর চতুর্থ তলার ছাদ ঢালাই করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিরুন বেগম বলেন, স্কুলের উত্তর পাশে বড় একটি জলাশয় (পুকুর) ছিল। বছর পাঁচেক আগে সেটি বালু দিয়ে ভরাট করা হয়।

সুমন মন্ডল নামে আরেকজন বলেন, নতুন ভরাট করা জলাশয়ে প্রথমে পিলার বসানো হয়। তখনই তা হেলে পড়ে। শ্রমিকরা তখন রাগ করে চলে গিয়েছিল। পরে আবার বালি দিয়ে কাজ শুরু করা হলো। এখন তো ভবনটিই হেলে পড়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য দেবব্রত সরদার বলেন, “ভবনটি উত্তরে প্রায় দুই ফুটের মতো হেলে পড়ে। পরে চারতলা করার সময় পেছন দিকে একটু গাঁথুনি বাড়িয়ে সমান করে। তবে ফ্লোরগুলো এখনও নিচু রয়ে গেছে। এভাবে থাকলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হবে।”

ভবনটির ঠিকাদার টিপু হাওলাদার বলেন, “নির্ধারিত স্থানে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবন করতে দেয়নি। তাদের কারণেই ডোবা ভরাটের পর সেখানে ভবন নির্মাণ করতে হয়েছে। কাজ করার সময় পেছন পাশটা একটু হেলে যায়।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাষ মণ্ডল বলেন, “ভবনটি নির্মাণের শুরুতেই অনিয়ম হয় এবং নির্মাণ কাজ ঝুঁকিতে পড়ে। ঠিকাদার মাটি পরীক্ষা না করেই পাইলিং শুরু করে। ফলে তা বেঁকে মাটির গভীরে চলে যায়। তখন ক্রেন এনে পাইলিংয়ের যন্ত্র তুলতে হয়। এ কারণে প্রায় পাঁচ মাস নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকে। তৃতীয় তলা পর্যন্ত করা হলেই ভবনটি ছয় ইঞ্চি দেবে উত্তর দিকে হেলে পড়ে। ঠিকাদার তখন ক্রেন দিয়ে ঠেলে ভবনের নিচে বালু ও ঢালাইয়ের ব্যবস্থা করে। তারপর চতুর্থতলার ছাদ ঢালাই করে। ভবনটি দুই কোটি ৯০ লাখ টাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে।”

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, “ভবনটি সামনের দিকে একটু এগিয়ে করা যেত। কিন্তু বৈদ্যুতিক লাইনের কারণে বিদ্যালয়ের দক্ষিণে জায়গা নির্ধারণ করা হয়। ঠিকাদার বালু দিয়ে ডোবা ভরাট করে কাজ শুরু করেন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

About

Popular Links