Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘হিজড়া’ বলায় প্রতিবাদ করে হত্যার শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী

মঙ্গলবার শিশু শুভ হত্যার দায় স্বীকার করেছে সজল ব্যাপারি নামে এক ব্যক্তি

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৩৪ এএম

খুলনায় কটূক্তির প্রতিবাদ করার জের ধরে হত্যা করা হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভকে। 

মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) শুভ হত্যার দায় স্বীকার করে এ বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে সজল ব্যাপারী নামে এক ব্যক্তি। 

জবানবন্দি রেকর্ড করেন খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম। এরপর কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। সজল নগরীর ময়লাপোতা মুনসুর খাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়া নুর মোহাম্মদের ছেলে।

এ মামলায় সজলসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। গ্রেপ্তারদেরক আদালত কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলের প্রলাপ বকছেন শুভর বাবা ও মা। সন্তান হারানোর শোকে শুভর মা ঝুমুর বেগম অসুস্থ হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত দাস জানান, রবিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে শুভ বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ময়লাপোতা এলাকার একটি হোটেলে নাস্তা করে। পরে বালুর মাঠের দিকে খেলতে যায়। এ সময় সজল ব্যাপারি ওই স্থানে হাজির হয়ে শুভকে “হিজড়া” বলে ডাকতে থাকে। এতে শুভ ক্ষিপ্ত হয়ে এর প্রতিবাদ করে। পরে সজল ক্ষুব্ধ হয়ে শুভকে লাথি দেয় এবং ইট দিয়ে আঘাত করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সমস্যা হতে পারে ভেবে সজল ইট দিয়ে তার মাথা ও মুখে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে। শুভর মৃত্যুর পর পুলিশ দেখে গোপালগঞ্জ গিয়ে আত্মগোপন করে সে। ঘটনার দিন বিকেলে সজলের ঘর থেকে তার রক্তমাখা প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করে পুলিশ।

এসআই সুকান্ত দাস আরও জানান, পরবর্তীতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। সোমবার রাতে গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীর তীরে মধুপুর গুচ্ছগ্রামে পৌঁছুলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় সজল। পুলিশও নদীতে ঝাপ দিয়ে আটক করে তাকে। থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে  সে। স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে চায়। তাকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির করা হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুভকে রবিবার দুপুরে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় ফেজের ১৪ নম্বর রোডস্থ ফাঁকা স্থানে খুন করা হয়। এ ঘটনায় রোববার রাতে নিহত শুভর মা তিনজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনার জের ধরে ওই এলাকার মানুষ ফুসে উঠেছে। সোমবার মাগরিবের নামাজের আগ মুহূর্তে এলাকার সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধরা সজলদের ঘর ভাংচুর করে। উত্তেজিত জনতা তাদের বস্তি থেকে উৎখাত করার কথাও বলতে থাকে। আমিরুনের পরিবারের সকল সদস্য মাদক ব্যবসায়ী। 

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক বলেন, স্কুলছাত্র শুভ হাওলাদারকে হত্যার বিশ ঘন্টার মধ্যে প্রধান আসামি মো. সজল ব্যাপারীকে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। ওই দিন ঘটনাস্থলের ফুটেজ সংগ্রহ করে বস্তির একটি ঘর থেকে রক্তমাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট উদ্ধার করা হয়। 

About

Popular Links