Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জেলা ছাত্রলীগকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলেন গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

ধর্ষণের প্রতিবাদে করা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলাকারীদের দ্রুত আটকের দাবিতে মশাল মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:১৯ পিএম

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ছাত্রীকে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত এবং ধর্ষণের প্রতিবাদে করা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলাকারীদের দ্রুত আটকের দাবিতে মশাল মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন তারা।

শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মশাল মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

মশাল মিছিলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে ধর্ষণকারীদের আটক ও পরিচয় প্রকাশের দাবি তোলেন। এছাড়া ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে যারা হামলা চালিয়েছে এবং মদদ দিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।

মশাল মিছিলে অংশ নেওয়া সিএসই বিভাগের মাস্টার্স শ্রেণির শিক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম, আইন বিভাগের মাস্টার্স বিভাগের ছাত্র নাঈম ইসলাম, শফিকুল ইসলাম বলেন, “জড়িতদের আটকের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন এখনও কোনো ইতিবাচক খবর আমাদের দিতে পারেনি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন ছেড়ে যাবো না।”

তারা আরও বলেন, “ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে যারা হামলা চালিয়েছে এবং মদদ দিয়েছে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকে অনুরোধ করছি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ না করলে শিক্ষার্থীরা একযোগে গোপালগঞ্জ ত্যাগ করবে।”

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিয়াস সিকদার (২২), অন্তর (২১) ও জীবন (২০) নামের তিন জনকে আটক করে।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “মামলার বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না। আপনারা একটু ধৈর্য ধারণ করেন। আপনাদের ভালো খবর দেব।”

এর আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী তার বন্ধুর সঙ্গে গোপালগঞ্জ সদরের নবীনবাগ হেলিপ্যাডের সামনে থেকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় ৫ থেকে ৭ জন বখাটে এসে তাদের গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণাধীন ভবনে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে ওই ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হন এবং মারধর করা হয় তার বন্ধুকে। ভুক্তভোগী ছাত্রী বন্ধুদের মেসে গিয়ে সব ঘটনা জানালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার রাতে গোপালগঞ্জ সদর থানা ঘেরাও করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ঘোনাপাড়া গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় স্থানীয়রা। এ সময় “যার বাড়িতে যা আছে, তাই নিয়ে” বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া হয় মসজিদের মাইকে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টরসহ অন্তত ২০ শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হন।

মুহুর্মুহু হামলায় শিক্ষার্থীরা দিশেহারা হয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে রক্ষা পান। আশেপাশের বাড়িতে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব, প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমানসহ অনেকে।

About

Popular Links