Friday, June 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মতিন সৈকতের বাদ্যে বিষমুক্ত ফসলের মাঠ

মতিন সৈকতের ঢোল যেন কাজ করে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো। তার পিছু পিছু থাকে শিশু-কিশোরদের লম্বা ভিড়। ঢোলের শব্দ শুনে মাঠ থেকে কৃষক জমির আইলে উঠে আসেন। হাত-পায়ে কাদা নিয়ে দাঁড়িয়ে তার কথা শোনেন

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২২, ০২:০৫ পিএম

মাঘ থেকে ফাল্গুন। বোরো ধান লাগানোর সময়। এছাড়া এই সময় শীতের সবজি থাকে মাঠজুড়ে। ফসলে পোকার আক্রমণে ক্ষতি হয় ফসলের। ফসল বাঁচাতে কৃষক কীটনাশক ছেটানো শুরু করেন। এতে পোকার সাময়িক দমন হলেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে ফসল ও প্রকৃতিতে। উপকারী কীটপতঙ্গগুলো মারা যায়। মাছের বংশবৃদ্ধি বন্ধ হয়। পাখির খাবার কমে যায়।

এমন অবস্থায় এগিয়ে আসেন স্থানীয় শিক্ষক মতিন সৈকত। তিনি স্থানীয় কৃষকদের বোঝাতে শুরু করেন জমিতে বিষ প্রয়োগ না করতে। স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণে গ্রামের পথে পথে বাদ্যকর নিয়ে ঢোল বাজিয়ে শুরু করেন প্রচারণা।

মতিন সৈকতের ঢোল যেন কাজ করে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো। তার পিছু পিছু থাকে শিশু-কিশোরদের লম্বা ভিড়। ঢোলের শব্দ শুনে মাঠ থেকে কৃষক জমির আইলে উঠে আসেন। হাত-পায়ে কাদা নিয়ে দাঁড়িয়ে তার কথা শোনেন।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আদমপুর, পুটিয়া, সিঙ্গুলাসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এখন রোজকার দৃশ্য এটি। ৩০ বছর ধরে মতিন এভাবে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। কোথাও মাঠে নেমে ঝাটা জিংলা পুতে দিচ্ছেন। সেখানে এসে পাখি বসে পোকা খায়। সবজির জমিতে সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ দিতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেন তিনি।

উপজেলার সিঙ্গুলা গ্রামের কৃষক মানিক দাস জানান, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে এবার ধান চাষ করছেন। কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তিনি মতিন সৈকতের কাছ থেকে জেনেছেন। এখন তিনি প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমন করেন।

৩০ বছর ধরে গ্রামে গ্রামে কৃষকদের সচেতন করে তোলার কাজ করে আসছেন কুমিল্লার মতিন সৈকত ঢাকা ট্রিবিউন

দাউদকান্দির আমিরাবাদ এলাকার মো. হানিফ খান বলেন, মতিন সৈকতের প্রচারণার কারণে ওই এলাকার মানুষ জমিতে কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে। এতে পরিবেশ সুরক্ষিত থাকছে। সাথে মানুষ নিরাপদ খাবার পাচ্ছে।

মতিন সৈকত জানান, তিনি নিজেও কৃষক। শৈশবে যে নিরাপদ খাবার আর নির্মল পরিবেশ পেয়েছেন। তা হারিয়ে যাওয়ার পথে। বাতাসে এক সময় খুব কীটনাশকের ঘ্রাণ ভেসে বেড়াতো। ৩০ বছর ধরে ঢোল বাজিয়ে প্রচারণা করছেন। প্রথমে মানুষ পাত্তা দিত না। এখন আগ্রহ নিয়ে শুনতে চায়। পরামর্শ নেয়। ধীরে ধীরে কীটনাশকের ব্যবহার কমছে। এছাড়া তিনি পরিবেশ বিষয়ে গবেষণা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য পরিবেশ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন।

দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার  জামান বলেন, কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে মতিন সৈকত দারুণ ভূমিকা রাখছেন। প্রত্যেক উপজেলায় তার মতো উদ্যোমী একাধিক মানুষ থাকলে দেশে কীটনাশকের ব্যবহার কমে আসত।

এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল ইসলাম খান বলেন, দাউদকান্দি এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছেন মতিন সৈকত। এরকম নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো মানুষের সংখ্যা সমাজে কম।

পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক শওকত আরা কলি বলেন, মতিন সৈকতের পরিবেশ রক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি গ্রামে বাস করেও বহুমুখী কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত। সমাজে তার মতো মানুষের সংখ্যা বাড়লে পরিবেশ আরও বেশি সুরক্ষিত থাকবে।

About

Popular Links