Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পূরণ হলো না হাদিসুরের ঘর-সংসারের স্বপ্ন

হাদিসুর তার মাকে বলেছিলেন, আর ভাঙ্গা ঘরে থাহন লাগবে না মা। চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির ৪৭তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন তিনি 

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২২, ০২:৫১ পিএম

ইউক্রেনীয় বন্দরে রকেট হামলার শিকার বাংলাদেশি জাহাজ ‘‘বাংলার সমৃদ্ধি’’র ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান আরিফের (২৯) বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা বাজার এলাকায়। তিনি ওই এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক ও আমেনা বেগম দম্পতির বড় ছেলে।

তিন ভাই এক বোনের মধ্যে হাদিসুর রহমান দ্বিতীয়। ছোট দুই ভাই পড়াশোনা করেন বরগুনায়। পরিবারটিতে একমাত্র হাদিসুরই ছিলেন উপার্জনক্ষম। তরুণ এই প্রকৌশলীর আশা ছিল, এবারই পুরনো ঘর ভেঙে নতুন ঘরের কাজ ধরবেন। ঘরের কাজ শেষ হলে বিয়ে করবেন। দেশে থাকা অভিভাবকরা তার বিয়ের জন্য কথাবার্তা বলছিলেন।

এমন অবস্থায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা-বাবা।

ইউক্রেন সময় বুধবার (২ মার্চ) বিকেল ৫টা ১০ মিনিট, বাংলাদেশে তখন রাত প্রায় সাড়ে ৯টা। ছোট ভাই গোলাম রহমান প্রিন্সের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন হাদিসুর। এরই মধ্যে রকেট হামলার কবলে পড়ে তাদের জাহাজে আগুন ধরে যায়। ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই প্রাণ হারান হাদিসুর।

বিলাপ করতে করতে সাংবাদিকদের কথাগুলো বলছিলেন নিহত এ মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের মা আমেনা বেগম।

ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করছেন হাদিসুর রহমানের সহোদর ঢাকা ট্রিবিউন

আহাজারি করে আমেনা বেগম বলেন, “বাজানে মোরে কইছে, এইবার বাড়িতে আইয়া ঘর উডাইবে। আর ভাঙ্গা ঘরে থাহন লাগবে না মা। ঘরহান উডান অইলে বিয়া কইরা বউ ঘরে আনবে। মোর পোলাডার লাশটা আইন্না দ্যান, মোর পোলাডারে একনজর দেখমু, আর কিচ্ছু চাই না।”

নিহতের ছোট ভাই তারেক বলেন, “বুধবার সকালে সবশেষ ভাইয়ার সঙ্গে বাবা-মায়ের কথা হয়। ইউক্রেনে আটকে থাকার কথা জানিয়ে পরিবারের সবার কাছে দোয়া চেয়েছিলেন।”

পাঁচদিন আগে হাদিসুর তার মাকে মোবাইলে জানিয়েছিলেন যুদ্ধে আটকা পড়ার কথা। তখন থেকেই পরিবারের শঙ্কা ছিল ইঞ্জিনিয়ার ছেলেকে নিয়ে। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত শঙ্কাই সত্যি হলো।


আরও পড়ুন- ইউক্রেনে বাংলাদেশি জাহাজে রকেট হামলা, নিহত নাবিক


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির ৪৭তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন হাদিসুর। পড়াশোনা শেষে যোগ দেন “বাংলার সমৃদ্ধি”-তে। সাত বছর ধরে জাহাজটিতে চাকরি করে আসছিলেন হাদিসুর। 

জাহাজে অবস্থান করা বাংলাদেশি নাবিক সালমান সামি জানান, সিরামিকের কাঁচামাল পরিবহনের জন্য  গত ২২ ফেব্রুয়ারি তুরস্ক থেকে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় পৌঁছায় “এমভি বাংলার সমৃদ্ধি”। যুদ্ধাবস্থা এড়াতে জাহাজটিকে সেখানে পৌঁছানোর পরই পণ্যবোঝাই না করে দ্রুত ফেরত যেতে নির্দেশনা দেন শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বন্দরের পাইলট না পাওয়ায় ইউক্রেনের জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশি জাহাজটি।

বুধবার হামলার সময় হাদিসুর জাহাজের সামনের দিকে থাকায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণ হারান। জাহাজটিতে বাংলাদেশের মোট ২৯ জন নাবিক ছিলেন।

এখন হাদিসুরের স্বজনদের চিন্তা তার মরদেহ দেশে আনা নিয়ে।

শোকার্ত স্বজনদের দাবি, যেভাবেই হোক হাদিসুরের মরদেহ যেন বাড়িতে এনে দেওয়ার ব্যবস্থা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, “নিহত হাদিসুরের মরদেহ দেশে আনার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে।”

About

Popular Links