Friday, June 14, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইউক্রেনের হয়ে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তায়েব

বাবা-মায়ের শত নিষেধও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি ১৮ বছর বয়সী এই তরুণের দৃঢ় প্রত্যয়ের সামনে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২২, ১১:৪২ এএম

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান আইয়ুবের ছেলে মোহাম্মদ তায়েব (১৮)। সপরিবারে তারা থাকেন ইউক্রেনে। তায়েবের পড়াশোনা ইউক্রেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শ্রেণিতে। চলমান যুদ্ধে তিনি ইউক্রেনের হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়ছেন।

তায়েবের চাচা মোহাম্মদ রাসেল ইতালি প্রবাসী। তিনি গত জানুয়ারিতে দেশে এসেছেন। 

ঢাকা ট্রিবিউনকে রাসেল জানান, বাবা-মায়ের অনুরোধও তায়েবকে যুদ্ধে যাওয়া থেকে ফেরাতে পারেনি। জয়ী হয়ে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে আসার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রথম দিনেই সে ময়দানে নামে।


আরও পড়ুন- ইহুদিদের কাছে বিশেষ আবেদন ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের


রাসেল বলেন, “রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে তার পূর্বসূরীরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। ইউক্রেনে মানবতার জন্য যুদ্ধ করে সে বাঙালি জাতির সেই মুক্তিকামী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। তবে দেশে থাকা স্বজনরা তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে তারা গর্বিতও।”

তায়েবের দাদি নূরুন্নাহার জানান, নাতির জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া চাইছেন তিনি। নিরাপত্তাহীনতায় থাকা পরিবারটির অন্যান্য সদস্যদের জন্যও করা হচ্ছে প্রার্থনা।

তায়েবের চাচা রাসেল জানান, তিনি নিজেও দুই বছরের বেশি সময় ইউক্রেনে থেকেছেন। তারা তিন ভাই ও দুই বোন। বড় ভাই হাবিবুর রহমান আইয়ুব ৩২ বছর আগে পড়াশোনার জন্য ইউক্রেন গিয়েছিলেন। অবসর সময়ে কাজ করে কয়েক বছরের মধ্যেই কিয়েভের নিপ্রস্কিতে তৈরি পোশাকের নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে[ তোলেন তিনি। বিশ বছর আগে ওই দেশের নাগরিকত্ব পেলে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন আইয়ুব।

টটগবগে তায়েবের দৃঢ় প্রত্যয়ের কাছে হার মেনেছে বাবা-মায়ের নিষেধ ঢাকা ট্রিবিউন

পরে এলোনা নামে এক ইউক্রেনীয় নারীকে বিয়ে করেন তিনি। এই দম্পতির দুই ছেলে তায়েব (১৮) ও  মোহাম্মদ কারিম (৮)। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দুই দফায় বেশ কয়েক মাস দেশে সময় কাটিয়ে গেছেন আইয়ুব। দেশের স্বজনদের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে মিশে গেছেন এলোনা, তায়েব ও কারিম।

ভাইয়ের বরাত দিয়ে আইয়ুবের বড় বোন মরিয়ম বলেন, “তায়েব নিপ্রস্কি শহরের কিয়েভেস্কি টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ছোটবেলা থেকেই সাহসী ও খুবই মেধাবী। কয়েকদিন আগে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে তায়েব যুদ্ধ যাবে বলে মনস্থির করে। কিন্তু তার বাবা-মা রাজি ছিলেন না। কিন্তু ছেলের দৃঢ় সিদ্ধান্তের কাছে তাদের আপত্তি কাজে আসেনি। তায়েব বলেছে, দেশের এই সংকটময় সময়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। এমনকি দেশের পক্ষে যুদ্ধ করে মৃত্যু হলেও তার কোনো ভয় নেই। ইউক্রেনকে শত্রুমুক্ত করে তবেই ঘরে ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ থেকে স্বজনদের আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও ছেলের মায়ায় ইউক্রেন ছেড়ে যাননি তায়েবের বাবা-মা। খেয়ে-না খেয়ে জীবন বাজি রেখে রাতের বেলা মাটির নিচের বাংকারে এবং দিনে কিছুটা নিরাপদ এলাকায় লুকিয়ে বেঁচে আছেন তারা।” 

মরিয়ম বলেন, “ভাই আইয়ুবের সঙ্গে সময়-সুযোগ করে তাদের কথা হচ্ছ। আইয়ুব জানান, তায়েব প্রতিদিনই ফোনে তাদের সঙ্গে কথা বলছে এবং সে ভালো আছে।”

আইয়ুবের চাচাতো ভাই আব্দুল আলীম বলেন, “ভাতিজা তায়েব ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে যে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে তাতে আমরা গর্বিত। তাই গতকাল পাবুর গ্রামের প্রায় শতাধিক লোকের অংশগ্রহণে মিলাদ-মাহফিল করে তায়েবের জন্য দোয়া করা হয়েছে।”

About

Popular Links