Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গত দুই মাসে সড়কে নিহতদের ৪০%-ই মোটরসাইকেল আরোহী

পেশাগত দিক বিবেচনায় দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২২, ০৩:৫৭ পিএম

২০২২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ৮৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১,০১২ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে মোটরসাইকেল আরোহীদের। নিহতদের ৩৯.৮২%-ই ছিলেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। অন্যদিকে, গত দুই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১,১৪৬ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮.৬০% ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ দুর্ঘটনার শিকার।

শনিবার (৫ মার্চ) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। দেশের শীর্ষ সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সংগঠনটি এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের প্রথম দুই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৭৩৯ জন পুরুষ, ১৪৩ জন নারী এবং ১৩০ জন  শিশু। একই সময়ে আরও ১২টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৩৭ জন নিহত এবং ২৬টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, উল্লিখিত সময়ে ৩৫৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪২.২১%। আর এতে ৪০৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ২০২ জন পথচারী, যা মোট নিহতের ১৯.৯৬%। বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে তিন চাকার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) যানবাহন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৮১ জন, যা মোট নিহতের ১৭.৮৮%। এছাড়া, নিহতদের মধ্যে ১৪৭ জন বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সহকারী রয়েছেন।

এছাড়া, ৬৬ জন বাসযাত্রী, ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরির ৫৭ জন যাত্রী, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-এ্যাম্বুলেন্সের ২৫ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি নসিমন-ভটভটির যাত্রী ৪৮ জন এবং প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যানের যাত্রী ও বাইসাইকেলের আরোহী ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

গত দুই মাসে সবেচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। এ সময়ে মহাসড়কে ৩৫৩টি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে, শতকরা হিসাবে যা ৪১.৬২%। তাছাড়া, আঞ্চলিক সড়কে ২৯৫টি, গ্রামীণ সড়কে ১৪৩টি, শহরের সড়কে ৪৬টি এবং অন্যান্য স্থানে ১১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় মহাসড়কে হওয়া দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে সর্বোচ্চ ৩৭৯টি (৪৪.৬৯%) সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে  ১৯৯টি। মুখোমুখি সংঘর্ষ ১৫১টি, যানবাহনের পেছনে আঘাত ৯৩টি এবং অন্যান্য কারণে ২৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

গত দুই মাসের দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মোট যানবাহন ১,৪৩৭টি। এদের মধ্যে মোটরসাইকেল ৩৭৫টি, বিভিন্ন ধরনের ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান ৩৬৩টি, থ্রি হুইলার ২০২টি, বাস ১৬৮টি, পিকআপ ৭৯টি, ট্রলি ২৮, ট্রাক্টর ৪৫, মাইক্রোবাস ২১, প্রাইভেটকার ২৬টি, এ্যাম্বুলেন্স ৮টি, নসিমন-ভটভটির মতো স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৮১টি, প্যাডেল রিকশা-ভ্যান ও সাইকেল ৩১টি।

দুর্ঘটনার বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২৩১ জন প্রাণহানি হয়েছে, যা মোট নিহতের ২২.৮২%। চট্টগ্রাম বিভাগে মোট দুর্ঘটনার ২০.২৮% সংঘটিত হয়েছে।

তবে ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনার হার চট্টগ্রামের চেয়ে বেশি। এ বিভাগে মোট দুর্ঘটনার ২৩.২৩%। তবে প্রাণহানি ২২.৭২%, যা চট্টগ্রামের চেয়ে কম।

এছাড়া, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনায় সর্বনিম্ন ৪২ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

এদিকে, একক জেলা-ভিত্তিতে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি (৪৮ জন) মৃত্যু হয়েছে। আর সবচেয়ে কম (দুইজন) মারা গেছেন সাতক্ষীরা জেলায়। রাজধানী ঢাকায় ২১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৭ জন।

পেশাগত দিক বিবেচনায় দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা, রাজশাহী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন ছাত্রসহ এ সময়ের মধ্যে ১২৯ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। বাকিদের মধ্যে ওষুধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর বিক্রয় প্রতিনিধি ৫৪ জন, ব্যবসায়ী ৪৬ জন, স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষক ২৭ জন, ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ২৩ জন, পোশাক শ্রমিক ১৯ জন, এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৮ জন, পুলিশ সদস্য ১১ জন, ব্যাংকের কর্মী ১১ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৮ জন ও ৬ জন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাক ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ড্রাইভারদের বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানো এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণে তারা নিজেরা দুর্ঘটনায় পড়ছে এবং অন্যান্য যানবাহনকে আক্রান্ত করছে।

পথচারী নিহতের মাত্রাও চরম উদ্বেগজনক পর্যায়ে। পথচারীরা যেমন সড়কে নিয়ম মেনে চলে না, তেমনি যানবাহনগুলোও বেপরোয়া গতিতে চলে। ফলে পথচারী নিহতের ঘটনা বাড়ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। মূলত সড়ক পরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও অব্যস্থাপনার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থার উন্নয়নে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে পর্যবেক্ষণে তুলে ধরা হয়েছে।

About

Popular Links