Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হাইকোর্টের এক মাসের বাস্তবায়ন আদেশ, চার বছরেও আমলে নেয়নি দুদক

রিটকারীর অভিযোগ, ‌রিটের আদেশ চার বছরেও পালন না করে আদালতকে অসম্মান করেছেন দুদকের কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ নাহিদা ইয়াসমিনকে রক্ষার চেষ্টা করছেন

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২২, ০৭:৫৫ পিএম

রংপুর নগরীর সমাজকল্যাণ বিদ্যাবিথী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাহিদা ইয়াসমিনের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার পরও দুর্নীতি করে নিয়োগ পেয়েছেন মর্মে হাইকোর্টে একটি রিট হয়। ওই রিটের আদেশে বিষয়টি তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে রংপুর দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বলেছিলেন হাইকোর্ট। অথচ এই আদেশের চার বছর পার হলেও আদৌ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি রংপুর দুদক।

অধ্যক্ষ নাহিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এই রিট করেছেন রংপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুর রউফ মানিক।

রিটকারীর অভিযোগ, ‌“রিটের আদেশ চার বছরেও পালন না করে আদালতকে অসম্মান করেছেন দুদকের কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ নাহিদা ইয়াসমিনকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে দুদকের সমন্বিত রংপুর কার্যালয় এবং বিভাগীয় কার্যালয়ে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি দায়িত্বশীলরা।”

এ বিসয়ে আব্দুর রউফ মানিক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌“রিটে উল্লেখিত অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য সহকারী পরিচালক হোসেন শরীফকে দায়িত্ব দেয় দুদক। এই তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার দেখা করে আদালতের আদেশ পালনের অনুরোধ করেছি। ওই কর্মকর্তা করছি, করে দেবো, দেখছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি বলে চার বছর সময়ক্ষেপণ করছেন। পরে শুনেছি, অভিযুক্ত অধ্যক্ষের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের বলতে নিষেধ করেছেন ওই কর্মকর্তা।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাহিদা ইয়াসমিনের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অধ্যক্ষ হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগে কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এ নিয়ে ২০১৮ সালে হাইকোর্টে রিট করেন আব্দুর রউফ মানিক। ওই বছরই বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩০ দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে রংপুর দুদককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য দুদকের সহকারী পরিচালক হোসেন শরীফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু হাইকোর্টের এই আদেশ চার বছরেও পালন করেননি দুদকের কর্মকর্তারা।

আব্দুর রউফ মানিক অভিযোগ করে বলেন, “গত মাসের শেষের দিকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে হোসেন শরীফের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করে প্রতিকার চেয়েছি। তিনি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে আমাকে বিদায় করে দেন। এরপর রংপুর দুদকের উপ-পরিচালক ও বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিই। তারা অভিযোগ গ্রহণ করে আমাকে বলেছেন, তদন্ত কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে, তা তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে ব্যবস্থা নেবো। তাদের কথা শুনে মনে হয়েছে, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক আব্দুল করিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “রিটকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এরপর ২ মার্চ তার কার্যালয়ে গিয়ে রিটকারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল করিম রবিবার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তা দেখছেন। তাকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।” চার বছরেও কেন আদালতের আদেশ পালন করা হয়নি সেই প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি আব্দুল করিম।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হোসেন শরীফের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিষয়টি দেখছি। এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

About

Popular Links