Sunday, June 16, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘তিনজনের বেশি একত্রিত হয়ে শলাপরামর্শ সরকারি চাকরির আচরণবিধি বহির্ভূত’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ ধরনের নোটিশ জারি করতে পারেন না বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২২, ০৯:৫৮ এএম

এক নোটিশ জারি করে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের নির্দেশ দিয়েছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন বা তার বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী একত্রিত হতে পারবেন না।

সোমবার (৭ মার্চ) তার সই করা এ নোটিশের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নজরে আসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তাহেরের সই করা ওই অফিস আদেশে বলা হয়, “ইদানিং লক্ষ্য করা যাইতেছে যে কোন কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী ৩ বা তার বেশী সংখ্যক একত্রিত হয়ে শলা পরামর্শ করে থাকেন। যা রাষ্ট্রীয়, সামাজিক কিংবা পারিবারিক, সরকারী চাকুরীর আচরণ বিধির বহির্ভূত। যদিও কোন কাজ করার প্রয়োজন মনে করিলে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে যৌক্তিকতার মাধ্যমে উপস্থাপন করার জন্য সকলকে নির্দেশ প্রদান করা গেল। ইহার ব্যত্যয় হলে তাহার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত ভাবে জানানো হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের গণমাধ্যমকে বলেন, “স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিব দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কর্মরত আছেন। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায়। নিজেকে হেলথ ক্যাডারের নেতা দাবি করে তিনি আইন উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছামতো হাসপাতালে আসা-যাওয়া করেন। নিয়ম অনুযায়ী কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা করে হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও, তিনি তা না করে নিজের খেয়াল খুশি মতো হাসপাতালে প্রবেশ করেন এবং বের হন।”

আবু তাহের অভিযোগ করে আরও বলেন, “এছাড়াও তিনি হাসপাতালের একটি কক্ষে তার কার্যালয় বানিয়ে সেখানে ডাক্তার ও কর্মচারীদের নিয়ে গ্রুপিং করেন। নতুন যোগদান করা চিকিৎসকদেরকে তিনি হাসপাতালে রোগী না দেখার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে আসা রোগীদেরকে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট) দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে উদ্বুদ্ধ করেন। এ গ্রুপিংয়ের কারণে রোগীরা প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

ডা. তাহেরের দাবি, তিনি হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিয়েছেন। এতে ডা. রাজিব ক্ষিপ্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। অফিস চলাকালে কাজ ফেলে কর্মচারীরা দলবদ্ধ হয়ে ডা. রাজিবের অফিস কক্ষে জমায়েত হন।

এসব কর্মকাণ্ড ঠেকাতেই তিনি সোমবার ওই অফিস আদেশ জারির করেন বলে জানান।

এই ধরনের নোটিশ জারি করার এখতিয়ার তার আছে কি-না, জানতে চাইলে ডা. আবু তাহের বলেন, “জি পারি। জনস্বার্থে আমি এই অফিস আদেশ জারি করেছি।”

নোটিশটিতে স্মারক নম্বর দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আগেই কে বা কারা অফিস আদেশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। পরে আদেশটি আমি বাতিল করেছি।”

তবে এ আদেশের বিষয়ে জানাজানি হলে বিষয়টি নিয়ে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের আদেশ জারির কারণ জানতে ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক কার্যালয় থেকে তলব করা হয়েছে।

এদিকে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. রেজাউল করিম রাজিব বলেন, “আমি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে এই হাসপাতালে কর্মরত আছি। আমার বিরুদ্ধে যদি চাকরি আচরণবিধি লঙ্ঘন কিংবা অন্য কোনো অভিযোগ থাকত, তাহলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের কেন আমার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। তিনি একটি অবৈধ আদেশ দিয়ে বিতর্কিত হয়ে গেছেন।”

তিনি বলেন, “দুইজন ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দ কিংবা মতপার্থক্য থাকতেই পারে। সে জন্য তো তিনি এমন অফিস আদেশ জারি করতে পারেন না। এই নোটিশ অবৈধ ও ভিত্তিহীন বলে আমি এতে সই করিনি।”

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ ধরনের নোটিশ জারি করতে পারেন না বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. আহমেদ কবির।

তিনি বলেন, “এই ধরনের চিঠিতে আমরা বিব্রত। তবে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তাহের এবং মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিবের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব আছে দীর্ঘদিন ধরে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।”

About

Popular Links