Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অর্থপাচার মামলায় জব্দ ১২ বাস পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা

সাউথ লাইন পরিবহনের ১২টি বাস পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২২, ০৯:২২ পিএম

দুই হাজার কোটি টাকার অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত এবং ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের মালিকানাধীন পুলিশের জিম্মায় থাকা সাউথ লাইন পরিবহনের ১২টি বাস পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

রবিবার (১২ মার্চ) জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় এ ঘটনাকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আদার দাবি জানানো হয়েছে।

অর্থপাচার মামলার আদালতের মাধ্যমে সাউথ লাইন পরিবহনের ২২টি বাস আলামত হিসেবে জব্দ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকা। জব্দ করা বাসগুলি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল জেলা পুলিশ।

বাসগুলি ছিল ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পশ্চিম গোয়ালচামট মহল্লার সাজ্জাদ হোসেন বরকতের মালিকানাভুক্ত জায়গায়। এগুলোর মধ্যে ১০টি শেড দিয়ে ঘেরা ছিল এবং ১২টি সেখানে পাশের নিচু জমিতে রাখা ছিল। শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ১২টি বাসের সামনের সাড়ির দক্ষিণ দিক থেকে দ্বিতীয় বাসে আগুন জ্বলে উঠতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন অন্য বাসে ছড়িয়ে পড়ে। দমকল বাহিনীর একটি দল দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত আড়াইটার দিকে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। কিন্তু ততক্ষণে ওই ১২টি বাস পুড়ে যায়।

শনিবার রাতে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল গফফার বাদী হয়ে বাসগুলি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে নাশকতা উল্লেখ করে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আসামি করা হয় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের।

এদিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো আলিমুজ্জামান রবিবার এ ঘটনার তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করেন। কমিটির প্রধান করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) মো. ইমদাদ হোসেনকে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. হেলাল উদ্দিন। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে গঠিত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।


আরও পড়ুন- আগুনে পুড়লো ২ হাজার কোটি টাকা অর্থপাচার মামলায় জব্দ ১২ বাস


ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার ঢাকা ট্রিবিউনকে এ বিষয়ে বলেন, “বিভিন্ন দিক মাথায় রেখে ঘটনাটির তদন্ত করা হচ্ছে। এ বাসগুলির নিরাপত্তায় নিয়োজিত নৈশ প্রহরী শেখ মোহাম্মদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

এদিকে রবিবার জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভার শুরুতে জেলা প্রশাসক বাস পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করে বলেন, “ফরিদপুরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল ছিল। কিন্তু বাসগুলি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।” তিনি এ ঘটনার সুস্ঠ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

ফরিদপুরের “সাউথ লাইন” নামে পুড়ে যাওয়া ওই বাসগুলোর মালিক অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত এবং তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেল।

২০২০ সালের ১৬ মে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৮ মে মামলা করেন সুবল সাহা। এ ঘটনার জের ধরে ২০২০ সালের ৭ জুন পুলিশের বিশেষ অভিযানে ফরিদপুর-৩ আসনের সাংসদ খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাড়ি থেকে তার উপস্থিতিতে বরকত-রুবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২৬ জুন বরকত রুবেলের নামে ঢাকার কাফরুল থানায় দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা করে সিআইডি ঢাকা। পরবর্তীতে ওই মামলার আলামত হিসেবে ওই বাসগুলি জব্দ করে সিআইডি। বাসগুলি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা পুলিশকে।

About

Popular Links