Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টেঁটা দিয়ে খুঁচিয়ে মারার পর চন্দ্রবোড়াটিকে পোড়ানো হলো আগুনে

এই প্রজাতির সাপ নিউরোটক্সিক ও হিমোটক্সিক বিষ ধারণ করে। এই প্রজাতির সাপের দংশনের ফলে প্রাথমিক অবস্থায় দংশিত স্থান ফুলে যায়

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২২, ০২:১৫ পিএম

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় টেঁটা দিয়ে খুঁচিয়ে পাঁচ ফুট লম্বা একটি রাসেল’স ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ মারা হয়েছে।  

বুধবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের আব্দুল হাই খানের হাট এলাকার একটি ধানক্ষেতে সাপটি দেখেন স্থানীয়রা। ভয় পেয়ে টেঁটা দিয়ে খুঁচিয়ে সাপটিকে মেরে ফেলেন তারা।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের আমিন খার ডাঙ্গী এলাকায় একটি চন্দ্রবোড়া সাপ পিটিয়ে মারার পর মাটিতে পুঁতে রাখে স্থানীয়রা। ওই সাপটি আনুমানিক সাড়ে চার ফুট লম্বা ছিল।

স্থানীয়রা জানান, চর হরিরামপুর ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের চর শালিপুর পশ্চিম গ্রামের শেখ মোশারফ (৪৩) নামে এক ব্যক্তি বুধবার সকালে তার ধানক্ষেতে গেলে ফোঁস ফোসঁ শব্দ শুনে ভয়ে চিৎকার দেন। তার চিৎকারে শুনে পাশে কাজ করতে থাকা অন্য কৃষকরা এগিয়ে এসে সাপটি মেরে আগুনে পুড়ে ফেলেন।

ছবি দেখে সাপটির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ইব্রাহিম আল হায়দার।

তিনি  বলেন, “এটি বিষধর রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ। এই সাপটিকে আইইউসিএন বাংলাদেশ ২০০২ সালের নিরীক্ষায় বাংলাদেশে বিলুপ্ত বলে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে (কারো কারো মতে ২০০৯ সালে) পুনরায় রাজশাহীর চরাঞ্চলে দেখা যায়। সম্প্রতি এই সাপটি পদ্মা ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী জেলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও লক্ষীপুরে দেখা গেছে। এই প্রজাতির সাপ নিউরোটক্সিক ও হিমোটক্সিক বিষ ধারণ করে। এই প্রজাতির সাপের দংশনের ফলে প্রাথমিক অবস্থায় দংশিত স্থান ফুলে যায়, ধীরে ধীরে স্নাযুতন্ত্র ও কিডনি বিকল হয়ে পরে। ফলশ্রুতিতে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়।”

ইব্রাহিম আল হায়দার আরও বলেন, “তবে বর্তমানে বাংলাদেশের সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অধিকাংশ জেলা সদর হাসপাতালে এই সাপের বিষের প্রতিষেধক পাওয়া যায়। তাই এই সাপের দংশনের পর দংশনের শিকার রোগীকে অতিদ্রুত হাসপাতালে নেওয়া গেলে মৃত্যু ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।”

চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, “২০১৬ সালের শেষের দিক থেকে চরভদ্রাসন এলাকায় চন্দ্রবোড়া সাপ দেখতে পাওয়া যায়। তিনি বলেন গত ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এ সাপের দংশনে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ পর্যন্ত এ সাপের দংশনে আট থেকে ১০জনের মৃত্যু হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার প্রতিষেধক থাকায় সাপের দংশনে মৃত্যুর হার কমে আসছে।”

About

Popular Links